চান্দিনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি।
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার হাড়িখোলা ঠাকুরবাড়িতে শ্রীশ্রী বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর তিরোধান দিবস ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়েছে। বাংলা বর্ষপঞ্জির ১৯ জ্যৈষ্ঠ উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তিন দিনব্যাপী হরিনাম সংকীর্তন, পূজা-অর্চনা, ধর্মীয় আলোচনা, প্রসাদ বিতরণ ও ভক্ত সমাগমের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়।
মন্দির সূত্রে জানা যায়, হাড়িখোলা ঠাকুরবাড়ির বাসিন্দা সন্ধ্যা রানী দে ১৯৮২ সালে স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে সিদ্ধ পুরুষ লোকনাথ ব্রহ্মচারীর পূজা শুরু করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় ভক্তদের সহযোগিতায় সেখানে গড়ে ওঠে শ্রীশ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর মন্দির। প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিবছর তিরোধান দিবসসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়ে আসছে।
এ বছরও তিরোধান দিবস উপলক্ষে দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য ভক্ত ও দর্শনার্থী মন্দিরে সমবেত হন। ভক্তরা লোকনাথের চরণে প্রার্থনা নিবেদন করেন এবং মানবকল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। তিন দিনব্যাপী হরিনাম সংকীর্তনে বিভিন্ন কীর্তনদল অংশ নেয়। মন্দির প্রাঙ্গণ ভক্তিমূলক সঙ্গীত ও নামসংকীর্তনের ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে।
মন্দিরের প্রধান পুরোহিত বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী জানান, "বাবা লোকনাথের আদর্শ মানবসেবা, সত্য, ন্যায় ও ধর্মচর্চার শিক্ষা দেয়। তাঁর তিরোধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান শুধু ধর্মীয় নয়, সামাজিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে"।
শ্রীশ্রী বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী উপমহাদেশের অন্যতম শ্রদ্ধেয় সাধক ও আধ্যাত্মিক মহাপুরুষ। তিনি ১৭৩০ খ্রিস্টাব্দে (বাংলা ১১৩৭ সালের ১৮ ভাদ্র) তৎকালীন বাংলার যশোহর জেলার কচুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
শৈশব থেকেই তিনি ধর্মচর্চা ও আধ্যাত্মিক সাধনায় আকৃষ্ট ছিলেন। মাত্র অল্প বয়সে গুরুর সঙ্গে গৃহত্যাগ করে কঠোর তপস্যা ও ব্রহ্মচর্য পালন করেন। দীর্ঘকাল ভারত, হিমালয় ও বিভিন্ন তীর্থস্থানে সাধনা শেষে তিনি বর্তমান বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলার বারদী এলাকায় আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন।
বাবা লোকনাথ মানবসেবা, দয়া, সত্যনিষ্ঠা ও ঈশ্বরভক্তির শিক্ষা প্রচার করেন। তাঁর বিখ্যাত বাণী— “রণে, বনে, জলে, জঙ্গলে যখনই বিপদে পড়বে, আমাকে স্মরণ করিও; আমি তোমাদের রক্ষা করিব।”—আজও ভক্তদের মধ্যে গভীরভাবে সমাদৃত।
১৮৯০ খ্রিস্টাব্দের ১৯ জ্যৈষ্ঠ তিনি মহাসমাধিতে লীন হন। এই দিনটিকেই তাঁর তিরোধান দিবস হিসেবে ভক্তরা প্রতি বছর গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তিভরে পালন করে থাকেন।
তিরোধান দিবস উপলক্ষে হাড়িখোলা লোকনাথ মন্দিরে আয়োজিত অনুষ্ঠান সফল করতে স্থানীয় ভক্তবৃন্দ ও মন্দির পরিচালনা কমিটি সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে প্রতিদিন ভক্তদের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়।
বুধবার হাড়িখোলা মন্দিরে ড়উপস্থিত হয়ে ভক্তদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা করেন চান্দিনা উপজেলা বিএনপি সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী আরশাদ, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মোসলেহ উদ্দিন, পূজা উদযাপন ফ্রন্ট চান্দিনা উপজেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক গৌরাঙ্গ চন্দ্র সাহা, সাধারণ সম্পাদক কার্তিক দে প্রমুখ।