প্রতিবেদক: Raisul Islam Shohag | ক্যাটেগরি: বৃহত্তর কুমিল্লা | প্রকাশ: 16 Nov 2025, 12:16 AM
কুমিল্লায় সক্রিয় অস্ত্র ব্যবসায়ীরা সীমান্তে কড়া নজরদারি বিজিবির অস্ত্র ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা পুলিশের
মাহফুজ নান্টু
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র পাচার বাড়ছে। কাঁটাতারের ফাঁকফোকর দিয়ে নিত্যনতুন কৌশলে অস্ত্র ঢুকিয়ে তা পৌঁছে যাচ্ছে নগরীর অপরাধচক্র, রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত ও স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠীর হাতে। এতে উৎকণ্ঠায় সীমান্তবাসীসহ সাধারণ মানুষজন। ৩ নভেম্বর ভোরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার ধনপুর মাঠে বিজিবির অভিযানে পালিয়ে যায় কয়েকজন দুর্বৃত্ত। তাদের ফেলে যাওয়া ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয় দুইটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও ১২ কেজি গাঁজা। ধারণা করা হচ্ছে, নির্বাচন ঘিরেই অস্ত্রগুলো দেশে আনা হয়েছিল।
কুমিল্লা জেলার প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকা ভারত সীমান্তবর্তী। জেলার অন্তত ২০টি পয়েন্ট দিয়ে অস্ত্র প্রবেশ করানো হয় বলে জানা গেছে। পাহাড়ি সশস্ত্রগোষ্ঠী অর্থ সংগ্রহের জন্য সেকেন্ড হ্যান্ড এসব অস্ত্র বাংলাদেশে বিক্রি করছে বলেও দাবি সূত্রের। এসব অস্ত্রের দাম ২০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত, আর প্রতিটি গুলি বিক্রি হয় ৫০০ থেকে ১৫শ টাকায়। সীমান্তবাসীরা অভিযোগ করেন—প্রতিবার নির্বাচনেই মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে অস্ত্র পাচারচক্র। তাদের মতে, সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো জরুরি। বিজিবি জানিয়েছে—অস্ত্র ও অন্যান্য চোরাচালান রোধে সীমান্তে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। কুমিল্লা ১০ বিজিবির কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ, কুমিল্লা বলেন, “অবৈধ অস্ত্রসহ যে কোনো চোরাচালান বন্ধে বিজিবি সর্বোচ্চ তৎপর আছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুমিল্লায় লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারেও জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। তাদের আশঙ্কা—এসব অস্ত্র উদ্ধারে বিলম্ব হলে নির্বাচনে সহিংসতা বাড়তে পারে। সচেতন নাগরিক কমিটির সাবেক সভাপতি বদরুল হুদা জেনু বলেন, “নির্বাচনের আগে লুট হওয়া সব অস্ত্র উদ্ধার না হলে ঝুঁকি বাড়বে।”
গত এক বছরে কুমিল্লায় পুলিশ উদ্ধার করেছে ৩৮টি পিস্তল ও ১১৩ রাউন্ড গুলি। সেনাবাহিনী উদ্ধার করেছে ১৭টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৮১টি অ্যামো, ৩৩টি কার্টুজ, ১ কেজি ককটেল তৈরির বারুদ ও ২১টি ককটেল। গত ছয় মাসে র্যাব উদ্ধার করেছে ১৬টি অস্ত্র এবং ১৭ রাউন্ড গুলি। কুমিল্লা র্যাব সিপিসি ২ এর অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম জানান, লুট হওয়া অস্ত্রসহ সব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধার অভিযান আগের চেয়ে আরও জোরদার করা হয়েছে। কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খাঁন জানান, অস্ত্র ব্যবসায়ীরা যাতে নির্বাচনের সময় সক্রিয় হতে না পারে, সে জন্য বিশেষ নজরদারি চলছে। পুলিশ সদর দফতর থেকে অস্ত্র ধরিয়ে দিতে জনগণের জন্য পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছে।
এই সংবাদটি শেয়ার করুন
অন্যান্য খবর
কসবা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশী নিহত
নেপাল চন্দ্র সাহা, কসবাব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার ধজনগর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ...
প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপির মত...
নিজ¯^ প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণপাড়াকুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়ে...
মানবতার ছোঁয়ায় বুড়িচংয়ের শিকারপুরে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা...
মো. জাকির হোসেনমানুষ মানুষের জন্য—এই চিরন্তন সত্যকে সামনে রেখে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়ন...
পুকুর ভরাট প্রতিরোধে মোবাইল কোর্টে জরিমানা
আয়েশা আক্তারকুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলায় পুকুর ভরাটের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ম...
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিরনিদ্রায় শায়িত বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আব...
মো.জাকির হোসেন কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের কোরপাই গ্রামের কৃতি সন্তান, বীর মুক্তিযো...
আদেশ পেয়েও ফেনীর পুলিশ সুপার হিসেবে যোগ দিতে পারছেন না এসপ...
সোহেল রানা, চান্দিনা কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বাসিন্দা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাহবুব আলম খান|...