প্রতিবেদক: Raisul Islam Shohag | ক্যাটেগরি: বৃহত্তর কুমিল্লা | প্রকাশ: 21 Sep 2026, 8:41 AM
অপ্রতিমকে হারিয়ে মায়ের আহাজারি আমার রুহটাও চলে গেলে, আমার ফড়িং আর ছবি তুলবে না
মাহফুজ নান্টু কুমিল্লা।।
এভাবেই একমাত্র সন্তান ইয়াশাত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে (১৩) হারিয়ে আহাজারি করছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম। সন্তানের মরদেহ বাড়িতে আনার পর রোববার সকালে গগনবিদারী চিৎকারে ভারী হয়ে ওঠে কোটবাড়ির গন্ধামতি এলাকার নূরজাহান ভিলার পরিবেশ।
অপ্রতিমের মরদেহ যখন শেষ বিদায়ের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল, তখন টানা দুই দিনের নির্ঘুম, ক্লান্ত মা শেষবারের মতো সন্তানের মুখ ছুঁয়ে চুমু দিয়ে বিদায় জানান। একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে ঘরের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।
রোববার সকাল ১০টায় মায়ের কর্মস্থল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সকাল ১১টায় বাড়ির পাশে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
অপ্রতিম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত শুক্রবার বিকেল পৌনে ৩টার দিকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বাসা থেকে বের হয় সে। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি।
শুক্রবার রাত ১২টার দিকে অপ্রতিমের বাবা কেএম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে তার সন্ধানে কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, শুরুতে অপ্রতিমের মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। শনিবার সকালে আরও পুলিশ সদস্য তার সন্ধানে মাঠে নামেন।
পরে শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
অপ্রতিমের বাবা কেএম ফিরোজ শাহরিয়ার অভিযোগ করেন, পুলিশের ভূমিকার চেয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা বেশি ছিল।
অপ্রতিমের প্রতিবেশী আবু সাঈদ বলেন, শুক্রবার রাত ১২টার পর জিডি করা হলেও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে অপ্রতিমের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা সকালে করা হয়।
এদিকে অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ডের পর লালমাই পাহাড় ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে আগে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তারা প্রশ্ন তোলেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা থানার ওসির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করেন।
অভিযোগের বিষয়ে সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন ও ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আইফোনের দিকে নজর ছিল তুহিনের: পুলিশ সুপার
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে তিনজন সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ। অন্য একজনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
রোববার দুপুর ২টায় সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সদর দক্ষিণের সানন্দা এলাকার নূরে আলমের ছেলে সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), সালমানপুর এলাকার মমিন হোসেনের ছেলে মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫), সদর উপজেলার হাতিগাড়া এলাকার মো. আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে কামরুল হাসান (১৫) এবং সদর দক্ষিণের এলাহিপুর এলাকার সেলিম মিয়ার ছেলে মো. সিয়াম।
পুলিশ সুপার বলেন, জিডি করার পরপরই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তুহিন অপ্রতিমকে একটি নির্জন জঙ্গলের দিকে নিয়ে যায়। মূলত অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোনটির প্রতি তুহিনের নজর ছিল।
পুলিশ সুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে সরাসরি ফাহাদ ও তার বন্ধু কামরুল জড়িত। তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ফাহাদের দেওয়া তথ্যে কামরুলের সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে আসে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে তিনজনের সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যজনের ভূমিকা অধিকতর যাচাই করা হচ্ছে।
পুলিশের দাবি, শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর অপ্রতিম ঘাতকদের সঙ্গে দেখা করে। পরে বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে তাকে হত্যা করা হয়।
এই সংবাদটি শেয়ার করুন
অন্যান্য খবর
অপ্রতীম হত্যায় চার অভিযুক্তকে আদালতে সোপর্দ
কুমিল্লা প্রতিনিধি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযো...
মোবাইল ছিনিয়ে নিতেই নির্জন পাহাড়ি জঙ্গলে নিয়ে অপ্রতিমকে হত্য...
আয়েশা আক্তারকুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে...
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানা...
কুবি প্রতিনিধি:কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে, হ...
প্রথমে তুহিন পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতীমের ম...
মাহফুজ নান্টু কুমিল্লা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছ...
বুড়িচংয়ে সেচ পাম্পের তার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ব...
মো.জাকির হোসেন। কুমিল্লার বুড়িচংয়ে সেচ পাম্পের বিদ্যুতের তার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে...
ব্রাহ্মণপাড়া ও কসবায় বিজিবির অভিযানে কোটি টাকার ভারতীয় চোরাচ...
মো. আনোয়ারুল ইসলাম, ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি।।কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সীমান্তবর্তী...