লালমাইয়ে খাল খননে অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ করায় মুঠোফোনে সাংবাদিককে বিএনপি নেতার হুমকি
কুমিল্লার লালমাইয়ে সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত খাল খননে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগের সংবাদ প্রকাশ করায় মুঠোফোনে সাংবাদিকদের হুমকি ও গালিগালাজ করেন উপজেলার পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং একই ইউনিয়নের দরবেশপাড়া বাজারে সরকারি জায়গার উপর অবৈধভাবে নির্মিত দোকানের মালিক জাহাঙ্গীর আলম। এ সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অডিও রেকর্ডে সাংবাদিকের উদ্দেশ্যে ওই বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলমকে বলতে শোনা যায়, "খালের উপর সরকারি জায়গা, এই জায়গা কি তোর বাপের? ওই তোর বাপের জায়গা নি মাদারচোদ? তোরা নিউজ করলি কেন? বেয়াদব। এ-সময় বিএনপি নেতা আরো বলেন, খালের উপর আমার দোকান আছে সেটা তো আমি বলেছি। তাই বলে আপনারা লিখে দিবেন?" ঘটনাটি স্থানীয় সাংবাদিক মহল ও সচেতন নাগরিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। উল্লেখ্য, শনিবার (৪ জুলাই) রূপসী বাংলায় নিউজটি প্রকাশিত হয়েছে।
জানা গেছে, বিএনপি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার কৃষিজমিতে সেচসুবিধা বাড়াতে ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)-এর আওতায় খাল খননের এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলার পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নের দোশারীচোঁ থেকে দরবেশপাড়া বাজার হয়ে ডাকাতিয়া নদীর সংযোগ পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ৫ কিলোমিটার খাল খনন কাজের শুরু থেকে ৩০ ফুট প্রস্থ বা চওড়া ঠিক থাকলেও দরবেশপাড়া বাজারে এসে সেই নকশা অনুসরণ করা হয়নি। স্থানীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের চাপে তার দোকানসহ খালের উপর নির্মিত ৩৩টি অবৈধ দোকান উচ্ছেদ না করে সরকারি নকশায় নির্ধারিত ৩০ ফুট চওড়ার পরিবর্তে মাত্র ১০/১৫ ফুট চওড়া করা হয়। এতে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করলে সাংবাদিকরা সরেজমিনে গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করে। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিকদের মুঠোফোনে একাধিকবার হুমকি ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন স্থানীয় বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর। এ ঘটনায় দৈনিক রূপসী বাংলার সাংবাদিক মাসুদ রানা বাদী হয়ে লালমাই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। যার জিডি নং-১৮৪।
স্থানীয়রা জানান, জাহাঙ্গীর বিগত সরকারের আমলে পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়ন আ'লীগের সভাপতি (তার মামা) এজিএম শফিকুর রহমানের নাম ভাঙিয়ে এবং তার বিভিন্ন ব্যবসায়ের পার্টনার ওয়ার্ড আ'লীগের সভাপতি শাহজাহানের সাথে মিলেমিশে মাটি কাটা, ড্রেজার মেশিন চালানো, সরকারি জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পর্দার আড়ালে হদগড়া, ফাজিলপুর, আলোকদিয়া, দরবেশপাড়া গ্রামগুলোতে মাদক, জুয়া ও নারী দিয়ে ব্যবসার অভিযোগও রয়েছে জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে। ওই এলাকায় সকল অপকর্মের নিয়ন্ত্রক এই জাহাঙ্গীর।
এ ঘটনায় লালমাই প্রেস ক্লাবের সভাপতি শাহজাহান মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, খাল সরকারি সম্পদ। কৃষিজমিতে সেচসুবিধা বাড়াতে জনকল্যাণে সরকার লালমাই উপজেলায় একটি খাল খননের উদ্যোগ নেয়। সেখানে অনিয়ম দেখায় স্থানীয় প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকরা সংবাদ প্রকাশ করে। জনগুরুত্বপূর্ণ এই সংবাদটি প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিককে হুমকি দেওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মতভিন্নতা থাকলে প্রতিবাদের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু সাংবাদিককে হুমকি দেওয়া, গালমন্দ করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এই হুমকি ও অসৌজন্যমূলক আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
স্থানীয়দের মতে, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
লালমাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, এই ঘটনার বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ক্যাটেগরি:
বৃহত্তর কুমিল্লা
ট্যাগ:
বৃহত্তর কুমিল্লা
জাতীয়
আন্তর্জাতিক
রাজনীতি