চান্দিনা প্রতিনিধি।
নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় কুমিল্লার চান্দিনা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ২০০৯ সালের সন্ত্রাস বিরোধী আইনের ৮, ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ ধারায় দায়ের করা এই মামলায় ইতিমধ্যেই ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গত সোমবার (১ জুন) চান্দিনা থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মিথুন কুমার মন্ডল বাদী হয়ে ১৮ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫-৩০ জনকে আসামি করে মামলাটি করেন। মামলা দায়েরের পর থেকেই এলাকায় পুলিশি জোর তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলার পর গত তিন দিনে চান্দিনা ও বুড়িচং উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পৃথক অভিযান চালিয়ে ১ জন সন্দেহভাজনসহ মোট ১১ জন এবং অপর এক অভিযানে আরও ১ জনসহ মোট ১২ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
তদন্তকারী কর্মকর্তা ও চান্দিনা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. হুমায়ন কবির জানান, গত তিন দিনে চান্দিনা ও বুড়িচং উপজেলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে মোট ১২ জনকে আটক করে কুমিল্লা আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জন সন্দেহভাজন এবং অপর ৯ জন এজাহারনামীয় আসামী।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— চান্দিনা পৌর যুবলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মনির হোসেন (৩৫), যাকে সোমবার রাতে বেলাশ্বর গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া মঙ্গলবার রাতে উপজেলার এতবারপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও চান্দিনা মহিলা কলেজের শিক্ষক আক্তার হোসেন শাহিন এবং বুধবার সকালে মুরাদপুর বাজারের নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে উপজেলা কৃষকলীগের সহ-সভাপতি এম.এ.আলী এরশাদ (৪০) কে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করে পুলিশ।
অন্যান্য গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন বুড়িচং উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা মো. কামরুজ্জামান (৩১), উপজেলা মৎস্যজীবী লীগ নেতা মো. মমিনুল ইসলাম (৪৭), কোরপাই গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা অহিদ মেম্বার (৪২) এবং আবিদপুর গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা রবিউল হাসান (৩৬)।
এদিকে, মামলার ঘটনাস্থল এবং আসামির তালিকা নিয়ে স্থানীয় বিএনপি ও এনসিপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ফেসবুকজুড়ে অনেকেই এই মামলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
উপজেলা ছাত্রদল নেতা সাজ্জাদ হোসেন তাঁর ফেসবুক ওয়ালে লেখেন, বুড়িচং থানার কোরপাই এলাকার আওয়ামী লীগের নেতারা মিছিল করল আর মামলা হয়ে গেল চান্দিনা থানায়। বুড়িচং থানায় মামলা করল না কেন আমি প্রশ্ন রাখলাম চান্দিনার জনগণের কাছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে কুমিল্লা উত্তর জেলা মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব ফজলুল ছাত্তার লিখেছেন, আমাদের গ্রামের কাউকে হয়রানিমূলক মামলায় আসামি করতে হলে আমার সাথে বা দলীয় নেতাদের সাথে আলোচনা করা অতীব জরুরি। না হয় রাজনীতি থেকে ইস্তফা দেওয়াই উত্তম হবে।
অন্যদিকে ক্ষমতার অপব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়ে এনসিপি নেতা গাজী আলাউদ্দিন লিখেছেন, রাজনৈতিক নামে মানুষকে ব্যবহার করে দুর্নীতি-চাঁদাবাজি করবেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে কাউকে গ্রেফতার কিংবা মামলা বাণিজ্য করবেন, তাহলে ধরে রাখুন আপনার জন্য সব কিছু অপেক্ষা করছে।
মামলার সীমানা ও ঘটনাস্থল নিয়ে ওঠা বিতর্কের বিষয়ে জানতে চাইলে চান্দিনা থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মো. আতিকুর রহমান বলেন, আসামিদের মিছিল ও সমাবেশের ঘটনাস্থল ছিল চান্দিনা উপজেলার বড়গোবিন্দপুর। তারা সেখানে এসে জড়ো হয়েছিল, বিধায় চান্দিনা থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। এতে কোনো আইনি জটিলতা নেই। গ্রেফতারকৃত সকল আসামিকে কুমিল্লা আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।