প্রতিবেদক: Raisul Islam Shohag | ক্যাটেগরি: বৃহত্তর কুমিল্লা | প্রকাশ: 11 Jan 2026, 12:04 AM
রাতের আঁধারে শীতার্ত মানুষের জন্য কম্বল নিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছেন মানবিক ইউএনও মাহমুদা জাহান
নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণপাড়া
ঘন কুয়াশা, হাড় কাঁপানো শীত আর নিস্তব্ধ রাত। যখন অধিকাংশ মানুষ দিনের ক্লান্তি নিয়ে ঘরের ভেতর গুটিয়ে যায়, ঠিক তখনই শীতার্ত অসহায় মানুষের খোঁজে পাড়া-মহল্লায় ছুটে বেড়াচ্ছেন কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা জাহান। গত ১৫ দিন ধরে নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ শেষ করে সন্ধ্যা নামলেই তিনি বেরিয়ে পড়ছেন উপজেলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। সঙ্গে থাকছে সরকারি সহায়তার কম্বল—যা তিনি নিজ হাতে তুলে দিচ্ছেন শীতকাতর দরিদ্র মানুষের হাতে। এছাড়া তিনি উপজেলার বিভিন্ন এতিমখানায় এতিম শিশুদের মধ্যেও এসব কম্বল উপহার দেন।
উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম, অন্ধকার গলি কিংবা খোলা বারান্দায় রাত কাটানো মানুষের খোঁজে ঘুরে বেড়ান তিনি। কোথাও বৃদ্ধ, কোথাও অসহায় নারী, কোথাও আবার শিশুদের নিয়ে শীতে কাঁপতে থাকা পরিবার—এমন মানুষগুলোর কাছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি উপহারের কম্বল পৌঁছে দিচ্ছেন ইউএনও মাহমুদা জাহান। শীতের রাতে একজন নারী ইউএনওর এমন ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
রাতের আঁধারে ইউএনওর হাত থেকে কম্বল পেয়ে উপজেলার দীর্ঘভূমি গ্রামের বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন বলেন, এতো রাতে ম্যাডাম নিজে এসে আমাদের হাতে কম্বল দেবেন, তা কখনো কল্পনাও করিনি। এই শীতে আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য এটা শুধু কম্বল নয়, অনেক বড় পাওয়া।
ছাতিয়ানী গ্রামের অসহায় নারী মনোয়ারা বেগম বলেন, শীতে রাতে ঘুমাতে পারতাম না। হঠাৎ ইউএনও আপা এসে কম্বল দিলেন। মনে হলো সরকার সত্যিই আমাদের কথা ভাবছে।
নন্দীপাড়া গ্রামের জেবুন নেছা বলেন, ছোট বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে ছিলাম। শীতের রাতে ইউএনও আপা নিজ হাতে কম্বল দিয়ে গেলেন। তাঁর জন্য দোয়া করি।
এ বিষয়ে ইউএনও মাহমুদা জাহান বলেন, শীতের সময় সবচেয়ে বেশি কষ্ট পোহাতে হয় দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের। সরকারি সহায়তা যেন প্রকৃত শীতার্ত মানুষের কাছেই পৌঁছায়, সেই চেষ্টা করছি। রাত হোক বা দিন—মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের মূল দায়িত্ব।
স্থানীয়দের মতে, কেবল অফিসকক্ষে বসে নয়, মাঠে নেমে মানুষের কষ্ট অনুভব করেই প্রকৃত সেবা নিশ্চিত করা যায়। শীতের কুয়াশাচ্ছন্ন রাতে ইউএনও মাহমুদা জাহানের এই মানবিক উদ্যোগ তাই ব্রাহ্মণপাড়ায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রশাসনের এমন মানবিক মুখ দেখে শীতের রাতে কিছুটা হলেও উষ্ণতা ফিরে পাচ্ছেন অসহায় মানুষগুলো।
এই সংবাদটি শেয়ার করুন
অন্যান্য খবর
সাইবার অপরাধ: বাংলাদেশেও ডেরা গাড়ছে আন্তর্জাতিক চক্র?
কম্বোডিয়ার নমপেনের স্ক্যাম সেন্টারে পাচার হওয়া নয় বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে সে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্...
বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা ও বিনিয়োগকারীদের বলেছেন, তার সরকার বাংল...
সোহরাওয়ার্দীতে পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের ভাস্কর্যের বদলে বসছে...
চব্বিশের অভ্যুত্থানের পর থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা জাদুঘরের অবস্থা বেহাল। আগে দিনভর সেখানে...
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং দমনে মুখে কথা, মাঠে নেই রাজনৈতিক নেতার...
মাহফুজ নান্টুঅপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে আলোচনায় এসেছে কিশোর গ্যাং। এরই মধ্যে কুমিল্লায় পুলিশের...
বিশ্বঐতিহ্য সুন্দরবন — রূপসী বাংলার রক্ষাকবচ, ইতিহাস, ঐতিহ্য...
মাসুদ রানা, কুমিল্লা। বিশ্বের একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন শুধু বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন...
কিশোর গ্যাং: এক ভয়ংকর সামাজিক ব্যাধি, যেন ঘরে ঘরে জন্ম নিচ্ছ...
মোহাম্মদ আলী সুমন। গত এক মাসের খবরগুলো পড়লে বুক কেঁপে ওঠে। ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে কুমিল্লার লাল...