প্রতিবেদক: Raisul Islam Shohag | ক্যাটেগরি: বৃহত্তর কুমিল্লা | প্রকাশ: 19 Sep 2026, 9:37 AM
তিতাসে ১৪ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে পাঁচ বছরে ঝড়ে পড়েছে অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী
নাজমুল করিম ফারুক
ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল ১ হাজার ৯৬১ শিক্ষার্থী। পাঁচ বছর পর ২০২৬
সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ১ হাজার ৩৭২ জন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ
হয়েছে ৯৫৬ জন। অর্থাৎ ২০২১ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের
মধ্যে শেষ পর্যন্ত এসএসসি পাস করেছে মাত্র ৪৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ। হিসাব
অনুযায়ী, অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী এসএসসি পাস পর্যন্ত পৌঁছাতে
পারেনি।
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ১৪টি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২০২১ সালের ষষ্ঠ
শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ও উত্তীর্ণ
শিক্ষার্থীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া যায়।
তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছর আগে ষষ্ঠ শ্রেণিতে থাকা ১ হাজার ৯৬১ শিক্ষার্থীর
মধ্যে ২০২৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর্যায়ে পাওয়া গেছে ১
হাজার ৩৭২ জন। অর্থাৎ এ সময়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৫৮৯ জন বা ৩০
দশমিক ০৩ শতাংশ। আবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১ হাজার ৩৭২ জনের
মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৯৫৬ জন। ফলে পরীক্ষায় অংশ নিয়েও ৪১৬ জন উত্তীর্ণ হতে
পারেনি। এসএসসি পরীক্ষার্থী থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে অনুত্তীর্ণের হার ৩০
দশমিক ৩২ শতাংশ।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া ১ হাজার ৯৬১ শিক্ষার্থীর
মধ্যে পাঁচ বছর পর এসএসসি পাস করেছে মাত্র ৯৫৬ জন। অর্থাৎ ১ হাজার ৫ জন
শিক্ষার্থী এসএসসি পাসের তালিকায় নেই, যা ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া
মোট শিক্ষার্থীর ৫১ দশমিক ২৪ শতাংশ।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের নথিতে বিদ্যালয়ভেদে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে
যাওয়ার চিত্রেও বড় পার্থক্য দেখা যায়। বিশেষ করে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ
শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর তুলনায় এসএসসি পরীক্ষার্থী এবং
উত্তীর্ণের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
ইউনিয়ন কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২১ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে নিবন্ধিত ছিল
১২৪ জন। ২০২৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় মাত্র ৪৩ জন, উত্তীর্ণ হয় ৩৪
জন। অর্থাৎ ষষ্ঠ শ্রেণির তুলনায় এসএসসি পরীক্ষার্থী কমেছে ৮১ জন বা ৬৫
দশমিক ৩২ শতাংশ। আর ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর তুলনায়
এসএসসি পাস করেছে ৯০ জন কম; অর্থাৎ ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মাত্র ২৭
দশমিক ৪২ শতাংশ এসএসসি পাস করেছে।
ইউনিয়ন কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেনের মতে,
বিদ্যালয়টি চর এলাকায় হওয়ায় এখানে মেয়েদের বাল্যবিবাহ ও ছেলেদের বিদেশে
যাওয়ার প্রবণতা বেশি। এছাড়াও পরিসংখ্যানের সূত্রপাতে করোনাকালিন হওয়ায়
শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল খুব কম। এগুলোছাড়াও কিন্তু আমরা এসএসসি’র
নির্বাচনী পরিক্ষায় যারা একাধিক বিষয়ে ফেল করেছে তাদেরকে আর সুযোগ
দেওয়া হয়নি। সে কারণে এই স্কুলে ড্রপ আউট ৭০ শতাংশ। তবে তিনি মনে
করেন, এটি ৩০-৩৫ শতাংশ হলে স্বাভাবিক। তিনি আরো জানাচ্ছিলেন,
বর্তমানে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া ও বিদ্যালয়ে গমনে ব্যাপক অনিহা প্রকাশ
পাচ্ছে। এই প্রজন্মকে বিদ্যালয়মুখী করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে মাছিমপুর রামগতি রামনিধি ইনস্টিটিউশনে ২০২১ সালে ষষ্ঠ
শ্রেণিতে নিবন্ধিত শিক্ষার্থী ছিল ৩৩২ জন। পাঁচ বছর পর ২০২৬ সালের
এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় মাত্র ১৫০ জন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয় ১০৮ জন।
অর্থাৎ ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীর তুলনায় এসএসসি পরীক্ষার্থী
কমেছে ১৮২ জন বা ৫৪ দশমিক ৮২ শতাংশ। আর ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীর তুলনায়
এসএসসি পাস করেছে ২২৪ জন কম। অর্থাৎ ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মাত্র ৩২
দশমিক ৫৩ শতাংশ শেষ পর্যন্ত এসএসসি পাস করেছে।
মাছিমপুর আর আর ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক মো. মাহফুজুর রহমান
চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, ২০২১ সালে ভর্তি কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর পরবর্তী
দুইবছর অর্থ্যাৎ ২০২৩ সাল পর্যন্ত ছিল করোনাকালিন সময়। এসময়গুলোতে
শিক্ষার্থী ঝরেপড়ার হার ব্যাপক ছিল। যা নবম শ্রেণিতে এসে ধাক্কা লাগে। তবে
২০২৩ সালের পর থেকে শিক্ষার্থীর স্কুলগামীর হার স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি
আরো বলছিলেন, প্রতিবছর গড়ে ১০জন শিক্ষার্থী অন্যত্র চলে যাচ্ছে, বাল্যবিবাহ
ও ছেলেদের প্রবাস যাওয়ার প্রবণতা অনেক।
দুটি প্রতিষ্ঠানের তথ্যেই শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার চিত্রটি স্পষ্ট। ইউনিয়ন
কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে নিবন্ধিত ১২৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৮১ জনই
এসএসসি পরীক্ষার্থী পর্যায়ে পৌঁছায়নি। আবার পাঁচ বছর আগে ষষ্ঠ
শ্রেণিতে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৯০ জন এসএসসি পাসের তালিকায় নেই।
মাছিমপুর রামগতি রামনিধি ইনস্টিটিউশনেও ৩৩২ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৮২ জন
এসএসসি পরীক্ষার্থী পর্যায়ে পৌঁছায়নি এবং ২২৪ জন এসএসসি পাসের
তালিকায় নেই।
তালিকার বাকি ১২টি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও ষষ্ঠ শ্রেণিতে নিবন্ধিত
শিক্ষার্থী, এসএসসি পরীক্ষার্থী এবং উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যায়
উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে। ফলে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ
শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের এসএসসি পরীক্ষা পর্যন্ত ধরে রাখা এবং
শেষ পর্যন্ত উত্তীর্ণ করানোর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
তিতাস উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. হাইদুল ইসলাম
বলেন, উপজেলার অধিকাংশ বিদ্যালয় প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত সেক্ষেত্রে আর্থ
সামাজিক অবস্থা; বিশেষ করে দারিদ্রতা অনেকটা ঝরে পড়ার কারণ হতে পারে।
আমি ছয়মাস হয় এখানে এসেছি। গ্রাম্যাঞ্চলে কর্মের সাথে শিক্ষা ব্যবস্থার
ব্যাপক তফাৎ। তাই কর্মমূখী শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব
এই সংবাদটি শেয়ার করুন
অন্যান্য খবর
দাউদকান্দিতে ছেলে কর্তৃক বাবাকে হত্যার অভিযোগ!
প্রতিনিধি,দাউদকান্দি,কুমিল্লাকুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের সুন্দলপুর গ্রামের কৃষক...
চান্দিনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের ৩ নেতাকর্মী আটক
চান্দিনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি।ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চান্দিনায় ঝটিকা মিছিল করার সময় কার্য...
কুমিল্লায় ট্রাকচালকে পিটিয়ে হত্যা, আটক ৩
মাহফুজ নান্টুকুমিল্লার লালমাইতে আবদুর রশিদ (৩৫) নামের এক ট্রাকচালকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘট...
ডেঙ্গু প্রতিরোধে লোকবল নেই বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার। বাড়ছে আক্রা...
ফয়সল আহমেদ খান বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে...
স্বামী-স্ত্র্র একসাথে বিষপান. মারা গেলেন স্বামী, হাসপাতালে...
সাইফুল ইসলামনাঙ্গলকোটে অসম প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে বিয়ের ২ মাসের মাথায় পারিবারিককলহে স্বামী এবং স্ত্র...
কুমিল্লায় মহাসড়কে তাঁতি দলের বিক্ষোভ ও মোটরসাইকেল মহড়া
নিজস্ব প্রতিবেদক, সদর দক্ষিণনিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রমের প্রতিবাদে কুমিল্লা...