প্রতিবেদক: Raisul Islam Shohag | ক্যাটেগরি: বৃহত্তর কুমিল্লা | প্রকাশ: 4 Sep 2026, 9:51 AM
বাঞ্ছারামপুরে নকল প্রসাধনীতে সয়লাব দোকান-বিউটি পার্লার, বাড়ছে চর্মরোগ
বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে অসংখ্য বিউটি পার্লার ও সেলুন। পাড়া মহল্লা থেকে শুরু করে বিভিন্ন শপিংমল, মার্কেটসহ এলাকার অলি-গলিতে গড়ে তোলা হয়েছে শতাধিক বিউটি পার্লার এন্ড ট্রেনিং সেন্টার। তবে বেশীরভাগ পার্লারগুলোতে ব্যাবহার করা হচ্ছে বিএসটিআই অনুমোদনবিহীন নিন্মমানের প্রসাধনী। নিন্মমানের প্রসাধনী ব্যাবহার করার ফলে অনেক গ্রাহকদের ত্বকে নানা ধরনের চর্ম রোগ, ব্রন,ত্বক নষ্ট হয়ে যাওয়াসহ নানান রোগে আক্রান্ত হবার অভিযোগ পাওয়া গেলেও ভোক্তা অধিকার, বিএসটিআই বা উপজেলা প্রশাসনের কেউ এ যাবত কোন অভিযানের ইতিহাস নেই ১৩ ইউনিয়ন বিশিষ্ট সাড়ে ৩ লাখ মানুষের উপজেলাটিতে। নকল প্রসাধনীতে সয়লাব শপিংমল ও পার্লারগুলোতে এসব নকল পণ্য কিনে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।
প্রবাস অধ্যূসিত উপজেলাটির,বিশেষ করে সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্যসচেতন তরুণী, কর্মজীবী নারী,গৃহবধূ, বিয়ের কণ্যা ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা নকল প্রসাধনী ব্যবহার করে স্বাস্থ্যসমস্যায় ভুগছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ত্বক, অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন নানা অসুখে।স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসন ও পুলিশের নজদারির ঘাটতি এবং জনসচেতনতার ঘাটতিতে এভাবে নকল পণ্য অবাধে বিক্রি হচ্ছে ও বিউটি পার্লারগুলো রমরমা ব্যবসা করছে।
গত রবি ও সোমবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বাঞ্ছারামপুর পৌর এলাকার বাজারগুলোর মার্কেট, শপিংমল আশে পাশের এলাকাতে ব্যাঙ্গের ছাতার মতো গড়ে তোলা হয়েছে বিউটি পার্লার এন্ড ট্রেনিং সেন্টার। আর সেইসব মার্কেটের কসমেটিকস দোকানগুলোতে বিক্রি হচ্ছে রাজধানী থেকে আনা অনুমোদনহীন প্রসাধনী সামগ্রী।
নকলের ফাঁদে পড়া গৃহিণী শাহনাজ পারভীন বলেন, আমি রুপসদী ইউনিয়নের একটি পার্লারে নিয়মিত ফেসিয়াল করাতাম।কিন্তু গত বছর আমার মুখে দানা বের হয়। মুখ থেকে এই দানা দূর করতে আমি তিনবার ডাক্তার দেখাইছি। ডাক্তার দেখানো ও ওষুধ বাবদ খরচ হয়েছে পাঁচ হাজার টাকার বেশি।’
বাঞ্ছারামপুর সদরের শপিংমলের একটি বিউটি পার্লার থেকে ২ বছর আগে বিয়ের সাজ সেজেছিলেন আশামনি। বিয়ের সাজ বলে মেকওভারও ছিল ভারি। বিয়ের অনুষ্ঠানে সুন্দর দেখালেও কিছুদিন পর থেকেই শুরু হলো বিপত্তি। ত্বকে সমস্যা দেখা দিল। ব্রণ, চামড়া খসখসে হয়ে যাওয়া শুরু হলো। মুখে একটার পর একটা কালো দাগ পড়তে শুরু করল। অনেক ত্বকরোগ বিশেষজ্ঞ দেখিয়েও ঠিক হচ্ছিল না। টানা দেড় বছর চিকিৎসার পর আশামনির ত্বক এখন ব্রণমুক্ত।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলার খোষকান্দি গ্রামের ফয়সাল মিয়া কিছুদিন যাবত বাজারের সেলুনে একটি নামী বিদেশি ব্রান্ডের শেভিং ফোম দিয়ে শেভ করছিলেন।এরই মধ্যে তার ত্বকে ব্রণ ও ব্রণ থেকে ঘা সৃষ্টি হলে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন,এটি নকল শেভিং ফোম। দোকানদার এটি মাত্র মোড়ক বদলে ১শ টাকায় ফোম ভরেছেন।প্রতারিত হবার পর থেকে তিনি বাজারে শেইভ করা বন্ধ করে দিয়েছেন। এসব অভিযোগ নিয়ে পার্লার ব্যবসায়ী, জেন্টস সেলুন ও কসমেটিকস দোকানীরা কেউ মুখ খুলতে রাজি হননি।
ঢাকা সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. ইশরাত জাহান ভূইয়া বলেন, বর্তমানে বাজারে সয়লাব ভেজাল প্রসাধনীগুলো মারাত্মক ক্ষতিকারক উপাদানে তৈরি হয়, যা ব্যবহারে ত্বক পুড়ে (বার্ন) যায়। চামড়া ড্যামেজ হতে থাকে। বিভিন্ন ধরনের অ্যালার্জি হয়। এমনকি চেহারা বিকৃত হয়ে যেতে পারে। এসব রাসায়নিক উপাদানগুলো অ্যালার্জি, মাইগ্রেইনস এবং হাঁপানি সৃষ্টি করতে পারে। এসব ব্যবহারে শুধু ক্যানসার হতে পারে তা নয়, এসব থেকে স্নায়বিক দুর্বলতাও দেখা দিয়ে থাকে।
পার্লারে ব্যবহৃত প্রশাসন সামগ্রী নিয়ে ডা.ইশরাত ভুইয়া আরো বলেন, "পার্লারগুলোতে ব্যবহার করা হয় রং ফর্সাকারী বিভিন্ন উপাদান। যেমন- ব্লিচিং এজেন্ট এবং স্টেরয়েড। এগুলো তাৎক্ষণিক রং ফর্সা করলেও ভবিষ্যতে ত্বকের বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। এসব কেমিক্যালের প্রভাবে ত্বকের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ দুই ধরনের ক্ষতি হয়। বাহ্যিক ক্ষতি হলো, ত্বকের ওপরের আবরণ নষ্ট হয়ে যায়, ত্বক সংবেদনশীল হয়ে যায়। সূর্য বা তাপে গেলে মুখের ত্বক লাল হয়ে যায়। অভ্যন্তরীণ ক্ষতি হলো- ত্বকের সবচেয়ে ওপরের আবরণ বা এপিডার্মিস লেয়ার যখন ড্যামেজ হয় তখন সেটা সহজে ঠিক হয় না।"
বাঞ্ছারামপুর ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা.রোকসানা ববি বলেন, বাজারে সবচেয়ে বেশি চলছে রং ফর্সাকারী ক্রিম। এর মাধ্যমে বেশি প্রতারিত হচ্ছে মানুষ। বিশ্বে এখনো কোনো রং ফর্সাকারী ক্রিম আবিষ্কার হয়নি। তবে মুখে যদি কারও দাগ পড়ে বা অ্যালার্জির সমস্যা হয় তখন সেসব রোগের কিছু চিকিৎসা দেওয়া হয়।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো: রবিউল হাসান ভূইয়া বলেন, বিষয়টি দেখবাল করবে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বিএসটিআই। আমি কেবল সহায়তা করতে পারি।তবে নকল প্রসাধনী সামগ্রী নিয়ে আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে শীঘ্রই জানাব।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সহকারি পরিচালক ইফতেখারুল আলম রিজভী মুঠোফোনে এবিষয়ে বার বার কথা বলার চেষ্টা করার পরও তাঁর সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে, কুমিল্লা আঞ্চলিক কার্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, বিদেশি প্রসাধনীগুলোর মোড়ক লেজার প্রিন্টের মাধ্যমে হুবহু নকল করেন অনেক অসাধুরা।আমরা বাঞ্ছারামপুরের বিষয়টি জানলাম।শীঘ্রই বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ নিবো।
এই সংবাদটি শেয়ার করুন
অন্যান্য খবর
বাঞ্ছারামপুরে সুদ ও সার্ভিস চার্জ মুক্ত ঋণ বিতরণ
ফয়সল আহমেদ খান , বাঞ্ছারামপুরদিতে হয় না কোনো সুদ কিংবা সার্ভিস চার্জ, লাগছে না কোনো জামানত, তবুও মিল...
লালমাইয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী...
মাসুদ রানা। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ...
বরুড়ায় মাল্টিমিডিয়া এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ
বরুড়া প্রতিনিধি.গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মনত্রণালয়ের অধীনে প্রেস ইনস্টিটিউট...
মুরাদনগরে সাংবাদিক শহিদুল হকের স্মরণে দোয়া ও আলোচনা সভা
বেলাল উদ্দিন আহাম্মদ,মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:কুমিল্লার মুরাদনগর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, বীর...
বাঙ্গরায় সরকারি হালট দখল করে দেয়াল নির্মাণ, সার্ভেয়ারের ম...
বাঙ্গরা প্রতিনিধিকুমিল্লার বাঙ্গরা উপজেলার হাটাশ গ্রামে সরকারি হালট দখল করে দেয়াল...
ব্রাহ্মণপাড়ায় ৬০ হাজার টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ বালাইনাশক জব্দ
মো. আনোয়ারুল ইসলাম।।কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় অভিযান চালিয়ে ৬০ হাজার টাকা মূল্যের মেয়াদোত্তীর্ণ বালাইন...