আয়েশা আক্তার।।
কুমিল্লা নগরীর মনোহরপুর এলাকার বহুতল ভবন মনোমিল রানী টাওয়ার যেন ধীরে ধীরে পরিণত হয়েছে আতঙ্কের এক আবাসস্থলে। দীর্ঘদিন ধরে একই ভবনের এক দম্পতির বিরুদ্ধে ভয়ভীতি, দখল, অর্থ আত্মসাৎ, মারধর ও হুমকির অভিযোগে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন ভবনের বাসিন্দা, শেয়ারহোল্ডার ও ভাড়াটিয়ারা। সর্বশেষ সেই বিরোধ রূপ নেয় প্রকাশ্য হামলায়। হামলার শিকার হয়েছেন ভবনের অন্যতম শেয়ারহোল্ডার ও ব্যবসায়ী মোঃ জামাল সরকার (৫৮)। এ ঘটনায় কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগে জানা যায়, মনোমিল রানী টাওয়ারের ৮ম তলার বাসিন্দা মমতাজ ইসলাম ও তার স্বামী আনোয়ারুল ইসলাম কাজলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়ম, প্রতারণা ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ চলে আসছে। ভবনের অন্যান্য শেয়ারহোল্ডারদের দাবি, শুরু থেকেই অভিযুক্তরা রাজনৈতিক প্রভাব ও ভয়ভীতি দেখিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে আসছেন।
লিখিত অভিযোগে ব্যবসায়ী জামাল সরকার উল্লেখ করেন, ২০১০ সালে কয়েকজন শেয়ারহোল্ডার মিলে বর্তমান মনোমিল রানী টাওয়ারের জমি ক্রয় করে ভবন নির্মাণ করেন। কিন্তু অভিযুক্ত মমতাজ ইসলাম নিজের নামে শেয়ার নিলেও প্রায় ৫ লাখ ৪১ হাজার টাকা পরিশোধ করেননি। উল্টো বিভিন্ন কৌশলে অন্য শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে প্রায় ২২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন এবং পরে জোরপূর্বক ভবনের একটি ইউনিট দখলে নেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এতেই শেষ নয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত দম্পতি দোকান বিক্রির নামে জাল রসিদ তৈরি করে প্রায় ১৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠক হলেও তারা কোনো সিদ্ধান্ত মানেননি। বরং মামলা-মোকদ্দমা উঠিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে পরে উল্টো হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন শুরু করেন।
ভবনের বাসিন্দাদের অভিযোগ, অভিযুক্ত দম্পতির কারণে পুরো ভবনের পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, দারোয়ানকে মারধর করে তাড়িয়ে দেওয়া, দোকান মালিকদের ভয়ভীতি দেখানো এবং অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা যেন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ফলে ভবনের মার্কেটের দোকান ভাড়া দেওয়া ও পরিবার নিয়ে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী ভুক্তভোগীর কাছ থেকে জানা যায়, গত ১১ মে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ভবনের অফিস কক্ষে কমিটির বৈঠক চলাকালে অভিযুক্ত মমতাজ ইসলাম সেখানে উপস্থিত হয়ে উত্তেজিত আচরণ শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি ব্যবসায়ী জামাল সরকারের শার্টের কলার চেপে ধরে এলোপাতাড়ি থাপ্পর ও মারধর করেন। এতে জামাল সরকার আহত হন এবং তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। পরে উপস্থিত অন্যান্য সদস্যরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলার সময় অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলেন, অতীতে যেমন ২২ লাখ টাকা আদায় করে নিয়েছি, তেমনি ভবিষ্যতেও আরও ৫০ লাখ টাকা আদায় করে নেবো বলে হুমকি দেন। এ বক্তব্যের পর থেকেই আতঙ্কে রয়েছেন জামাল সরকার ও তার গোটা পরিবার।
ভুক্তভোগী জামাল সরকার বলেন, আমরা এখন পুরা পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এরা খুবই ভয়ংকর লোক যেকোনো সময় তারা আরও বড় ধরনের হামলা বা ক্ষতি করতে পারে। পরিবার নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটছে আমাদের, আমি একজন সাধারণ ব্যবসায়ী ব্যবসার ক্জে বাড়ি থেকে বের হলেও ভয়ে ভয়ে থাকতে হয় সারাক্ষণ।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে।তাদের ভয়ে অনেকে মুখ খুলে তাদের অত্যাচারের কথা প্রকাশ করতে অনবহা প্রকাশ করে বলেন, কখন আবার আমাদের উপর হামলা করে বসে ঠিক নেই। অনেকেই বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানা গেছে।