প্রতিবেদক: Raisul Islam Shohag | ক্যাটেগরি: বৃহত্তর কুমিল্লা | প্রকাশ: 25 Jan 2026, 12:17 AM
স্মৃতির বাক্সে বন্দী হাওয়াই মিঠাই ৩০ বছর ধরে পথে পথে বিক্রি করছেন ছামাদ
মো. আনোয়ারুল ইসলাম।।
একসময় গ্রামবাংলার পথেঘাট, পাড়া-মহল্লা আর বাড়ির আঙিনায় শিশুদের ভিড় জমত হাওয়াই মিঠাই বিক্রেতাকে ঘিরে। রঙিন বাক্সে সাজানো গোলাপি হাওয়াই মিঠাই আর বাঁশির সুরে মুখর হয়ে উঠত চারপাশ। সময়ের পরিবর্তন আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় সেই দৃশ্য এখন প্রায় হারিয়েই গেছে। একসময় গ্রামবাংলার নিত্যদিনের চেনা ছবি হলেও আজ বাক্সবন্দি হাওয়াই মিঠাইয়ের ফেরিওয়ালাকে আর খুব একটা দেখা যায় না।
তবে হারিয়ে যেতে বসা সেই ঐতিহ্য এখনো আগলে রেখেছেন কিছু মানুষ। তাঁদেরই একজন ছামাদ। বয়স প্রায় ৬০ বছর। জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা তিনি। প্রায় তিন দশক ধরে গ্রামে গ্রামে ঘুরে হাওয়াই মিঠাই বিক্রি করছেন ছামাদ। কখনো নিজ জেলা জামালপুরে, কখনো পার্শ্ববর্তী জেলা কিংবা অনেক দূরের কোনো প্রত্যন্ত এলাকায়—রঙিন বাক্স কাঁধে নিয়ে আজও পথে নামেন তিনি।
সম্প্রতি কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদরের মহালক্ষীপাড়া এলাকায় বাড়ি বাড়ি ঘুরে হাওয়াই মিঠাই বিক্রি করতে দেখা যায় তাঁকে। ছামাদের রঙিন বাক্সে সাজানো গোলাপি হাওয়াই মিঠাই দেখতে শিশুসহ সব বয়সী মানুষই কৌতূহল নিয়ে কাছে আসছেন। কেউ স্মৃতিচারণায় মগ্ন হচ্ছেন, আবার কেউ দীর্ঘদিন পর এই দৃশ্য দেখে ফিরে যাচ্ছেন শৈশবে।
ছামাদ বলেন, এই মিঠাই বিক্রির আয় দিয়েই আমাদের জীবন চলে। প্রায় ৩০ বছর ধরে এই পেশায় আছি। আগে গ্রামে গ্রামে ঘুরে অনেক বিক্রি হতো। এখন শিশুদের খাবারের অভ্যাস বদলে গেছে। তাই আগের মতো বিক্রি হয় না। তবে এখনো কিছু বাচ্চা আছে, যারা এই মিঠাই দেখলে খুশি হয়।
তিনি জানান, এই পেশার সঙ্গে তাঁর পারিবারিক সম্পর্কও আছে। ‘আমার বাবা এই কাজ করতেন। বাবার হাত ধরেই এই পেশায় আসা। বাবা অসুস্থ থাকলে আমি তাঁর জায়গায় যেতাম। ধীরে ধীরে নিজেই পুরোপুরি এই পেশায় জড়িয়ে পড়ি। তবে আমার ছেলেরা এই পেশায় আসেনি। তারা আধুনিক পেশা বেছে নিয়েছে।
ছামাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে এক হাজার থেকে বারোশো টাকার হাওয়াই মিঠাই বিক্রি হয়। খরচ বাদ দিয়ে যা থাকে, তা দিয়েই পাঁচ সদস্যের সংসার চলে। তিনি বলেন, এই বয়সে নতুন কোনো কাজ শেখা সম্ভব নয়। আর দীর্ঘদিনের পেশার প্রতি এক ধরনের মায়াও তৈরি হয়ে গেছে। আল্লাহ যতদিন সুস্থ রাখেন, ততদিন এই মিঠাইই আমার ভরসা।
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা আলফু মিয়া বলেন, আমরা ছোটবেলায় এই বারোমজা (হাওয়াই মিঠাই) খেয়েছি। প্রতিদিন আগ্রহ নিয়ে বারোমজাওয়ালার অপেক্ষায় থাকতাম। এখন তো এদের খুব একটা দেখা যায় না। অনেক বছর পর আজ আবার দেখে ছোটবেলার স্মৃতি মনে পড়ে গেল।
প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, একসময় এই দৃশ্য গ্রামবাংলার নিত্যদিনের অংশ ছিল। তখন হাওয়াই মিঠাই বারোমজা নামে পরিচিত ছিল। বিক্রেতারা বাঁশের দুই পাশে রশি দিয়ে ঝুলানো বাক্স নিয়ে ঘণ্টা বা বাঁশি বাজিয়ে এলাকায় এলাকায় ঘুরে বিক্রি করতেন। তখনকার শিশুরা খুব আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করত।
তিনি আরও বলেন, সময় বদলেছে, বদলেছে মানুষের অভ্যাসও। আধুনিক খাদ্যপণ্যের প্রতি শিশুদের আগ্রহ বেড়েছে। ফলে এই ঐতিহ্যটিও ধীরে ধীরে গ্রামীণ সংস্কৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। তবে আজও কোথাও কোথাও ভেসে ওঠে পুরোনো দিনের রঙিন হাওয়াই মিঠাইয়ের গল্প।
এই সংবাদটি শেয়ার করুন
অন্যান্য খবর
দুর্নীতিকে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা দিয়ে দায়িত্ব নিলেন ইউসুফ...
নিজস্ব প্রতিবেদককুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্প...
দখলদারদের খাল নদী ছেড়ে দিতেই হবে, হুঁশিয়ারি কৃষিমন্ত্রীর
মাহফুজ নান্টুকুমিল্লার লালমাই উপজেলায় ডাকাতিয়া নদীর শাখা খাল খনন কাজের উদ্বোধন করেছেন খাদ্য, কৃষি, ম...
লালমাই বার্তা ও লালমাই রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে ইফতার
কাজী ইয়াকুব আলী নিমেলপবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করতে লালমাই উপজেলায় কর্মরত সাংবা...
বাঞ্ছারামপুরে বিপুল পরিমান ভারতীয় মদ উদ্ধার
ফয়সল আহমেদ খান, বাঞ্ছারামপুরব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে পুলিশের অভিযানে একটি পিকআপ থেকে বিপুল পরিম...
কুমিল্লায় র্যাবের অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
নিজস্ব প্রতিবেদককুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯৬ ক্যান বিয়ার ও ১৫ কেজি গাঁজাসহ এক ম...
নবীনগর-বাঞ্ছারামপুর-ঢাকা চলাচলের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ রাস্...
আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া মিনাজব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কোনাঘাট থেকে শ্যামগ্রাম মোহিনী কিশোর স্কুল অ...