প্রতিবেদক: Raisul Islam Shohag | ক্যাটেগরি: বৃহত্তর কুমিল্লা | প্রকাশ: 3 Jan 2026, 11:01 PM
বুড়িচংয়ে ইউটিউব দেখে টমেটো চাষে চার মাসে কোটি টাকারও বেশী ব্যবসা
মো. জাকির হোসেন
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার চাঁনগাছা গ্রামের পরিশ্রমী যুবক মনির হোসেন। ইউটিউব দেখে গ্রীস্মকালীন টমেটো চাষে উদ্বুদ্ধ হয়। এরপর প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করে গত ৪ মাসে কোটি টাকার বেশী টমেটো বিক্রয় করেছেন। এখনো গাছণ্ডুলোতে ঝুলছে থোকায় থোকায় টমেটো। প্রতিদিনই স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি পাইকাররা বাগান থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছে। তার আশা আসন্ন শীত মৌসুমেও গাছগুলো পর্যাপ্ত ফলন দিবে।
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের চাঁনগাছা গ্রামের মনির হোসেন জানান, ইউটিউব দেখে টমেটো চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেন। চলতি বছরের জুনের প্রথম দিকে গ্রামের আশপাশে ৬টি প্লটে প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে টমেটো চাষ শুরু করে। জমি তৈরী করে ভারতীয় মঙ্গল রাজা ও শাহু প্রজাতির টমেটোর চারা রোপন করেন। এরপর দু'মাস পেরোতেই গাছে আসতে শুরু করে ফুল। এক সময় থোকা থোকা টমেটোতে গাছগুলো ভরে উঠে। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। প্রতিদিন গড়ে ১ টনের বেশী টমেটো দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারী নিমসার বাজারে বিক্রয় করা শুরু হয়। বাজারে অনেক ক্রেতা খবর পেয়েএখন সরাসরি বাগানে এসে টমেটো নিয়ে যাচ্ছে। মনির জানান, আমাদেও দেশে গ্রীস্মকালে টমেটোর পর্যাপ্ত ফলন নেই। তাই এটা খুবই লাভবান। তার বাগানে সর্বমোট ২৬/২৭ জন শ্রমিক কাজ করে। প্রতি বিঘায় সর্বমোট উৎপাদন খরচ হয়েছে প্রায় ১১ লক্ষ টাকা। গত জুন মাসের শেষ দিকে চারা রোপনের পর আগষ্ট মাসের শেষ দিকে ফসল তুলতে শুরু করে। প্রথম দিকে বাজার মূল্য কেজি প্রতি দেড়'শ টাকা করে পেলেও বর্তমানে এক'শ টাকায় কেজি প্রতি বাজার মূল্য পাচ্ছে। কারন হিসেবে জানান, শীতকালীন টমেটো বাজাওে আসতে শুরু করায় মূল্য কিছুটা কমেছে। বাগানে কথা হয় কৃষি সম্প্রসারন বিভাগের উপসহকারী ওমর ফারুকের সাথে। তিনি বলেন, এই ফসলটি গ্রীষ্মকালীন। তবে বর্তমানে গাছে যে ফলন দেখা যাচ্ছে, তাতে পুরো শীত মৌসুমেও এইসব গাছ থেকে পর্যাপ্ত ফলন পাওয়া যাবে। এরই মাঝে মনির তার জমি থেকে প্রায় ১'শ ৫০ টনের বেশী টমেটো বাজারে বিক্রয় করেছে দাবী করে বলেন, গাছগুলো এখন যেমন সতেজ, তেমনি টমেটোতে ঠাসা। আরও কিছুদিন ভালো মূল্য পাবার আশা করে বলেন, শীতে স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত টমেটো বাজারজাত হলে দাম অনেকটা কমে যাবে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ওমর ফারুক জানান, আমার থেকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসা, আফরিনা আক্তার, ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর কর্মকর্তা আতিকুর রহমান সরেজমিন টমেটো বাগানগুলো পরিদর্শন করেছে। আমরা কৃষি অধিদপ্তর থেকে নিয়মিত পরামর্শের পাশাপাশি মনির হোসেনকে বিপননে প্রশিক্ষণসহ আগামীতে উৎপাদন আরো বাড়াতে কৃষি বিভাগ থেকে ৫০ শতাংশ জমিতে পলিনেট হাউজের বরাদ্দ দিয়েছে। এছাড়াও বাজার সম্প্রসারনে নানাভাবে প্রচারনার কথাও বলেন।
এই সংবাদটি শেয়ার করুন
অন্যান্য খবর
দুর্নীতিকে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা দিয়ে দায়িত্ব নিলেন ইউসুফ...
নিজস্ব প্রতিবেদককুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্প...
দখলদারদের খাল নদী ছেড়ে দিতেই হবে, হুঁশিয়ারি কৃষিমন্ত্রীর
মাহফুজ নান্টুকুমিল্লার লালমাই উপজেলায় ডাকাতিয়া নদীর শাখা খাল খনন কাজের উদ্বোধন করেছেন খাদ্য, কৃষি, ম...
লালমাই বার্তা ও লালমাই রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে ইফতার
কাজী ইয়াকুব আলী নিমেলপবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করতে লালমাই উপজেলায় কর্মরত সাংবা...
বাঞ্ছারামপুরে বিপুল পরিমান ভারতীয় মদ উদ্ধার
ফয়সল আহমেদ খান, বাঞ্ছারামপুরব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে পুলিশের অভিযানে একটি পিকআপ থেকে বিপুল পরিম...
কুমিল্লায় র্যাবের অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
নিজস্ব প্রতিবেদককুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৯৬ ক্যান বিয়ার ও ১৫ কেজি গাঁজাসহ এক ম...
নবীনগর-বাঞ্ছারামপুর-ঢাকা চলাচলের একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ রাস্...
আরিফুল ইসলাম ভূঁইয়া মিনাজব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কোনাঘাট থেকে শ্যামগ্রাম মোহিনী কিশোর স্কুল অ...