প্রতিবেদক: Raisul Islam Shohag | ক্যাটেগরি: বৃহত্তর কুমিল্লা | প্রকাশ: 12 Oct 2025, 12:11 AM
চান্দিনা পৌর ভবনের উন্নয়নকাজে ফাঁকফোকর! ৪০ লাখ টাকার প্রকল্পে মানহীন সামগ্রী ওয়ার্কশপের দোষ দিচ্ছেন ঠিকাদার
সোহেল রানা
কুমিল্লার চান্দিনা পৌর ভবনের সংস্কার ও উন্নয়ন কাজে ৪০ লাখ টাকার প্রকল্পে অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠেছে। প্রধান ফটক, গেইট ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণে সিডিউলবহির্ভূত উপকরণ ব্যবহার এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী সরবরাহের অভিযোগ করেছেন স্থানীয় নাগরিক মো. আসাদুজ্জামান দুলাল।
তিনি গত বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) পৌর প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করে দাবি করেন “১৬ লাখ টাকার এসএস গেইট ও গ্রীলের কাজে সিডিউল অনুযায়ী ১.৫ এমএম পুরুত্বের পাইপ ব্যবহারের কথা থাকলেও বাস্তবে ১ এমএম পাইপ ব্যবহার করা হয়েছে।” তার দাবি, এই অনিয়মে প্রকল্প ব্যয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ অর্থ আত্মসাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
চান্দিনা পৌর ভবনের সংস্কার কাজটি বাস্তবায়ন হচ্ছে ‘কুমিল্লা জেলার ৭টি পৌরসভার অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (আইডিএফপিসি)’এর আওতায়। ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর এই প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হয়, যার কাজ পান স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স নজরুল এন্টারপ্রাইজ। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০ লাখ টাকা এর মধ্যে প্রায় ১৬ লাখ টাকা বরাদ্দ এসএস গ্রীল ও চারটি গেইট নির্মাণে। প্রকল্প নকশা অনুযায়ী গেইট ও গ্রীলে ১.৫ মিমি পুরুত্বের স্টেইনলেস স্টিল পাইপ ব্যবহার করার কথা। তবে স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধান করে জানা যায়, বেশিরভাগ স্থানে ১ মিমি পুরুত্বের পাইপ ব্যবহার করা হয়েছে এবং সীমানা প্রাচীর নির্মাণেও ব্যবহৃত ইট ও কংক্রিট মানহীন।
অভিযোগকারী আসাদুজ্জামান দুলাল বলেন— “পৌর ভবনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় যদি এমন অনিয়ম হয়, তাহলে অন্যান্য প্রকল্পের কাজের কী অবস্থা হবে তা সহজেই অনুমান করা যায়। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি, এখানে সিডিউল অনুযায়ী ১.৫ এমএম পাইপ ব্যবহার হয়নি। এতে ব্যয় কমে গেছে অন্তত ৪০ শতাংশ।”
তিনি আরও বলেন, “এখানে পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা রয়েছেন। তাদের চোখের সামনেই যদি নিম্নমানের কাজ হয়, তবে প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।” মেসার্স নজরুল এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. নজরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন— “আমি ওয়ার্কশপে ১.৫ এমএম স্টেইনলেস স্টিল পাইপের অর্ডার দিয়েছি। যদি ওয়ার্কশপে কেউ মানের ঘাটতি করে থাকে, তাহলে আমি সিডিউল অনুযায়ী সংশোধন করে কাজ সম্পন্ন করব।”
চান্দিনা পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাত হাসান বলেন— “সব কাজ একসাথে নজরদারি করা সম্ভব হয় না। কাজ শেষ হলে সিডিউল অনুযায়ী আমরা পরিদর্শন করব। যদি নিম্নমানের কাজ প্রমাণিত হয়, তবে ঠিকাদারকে তা পরিবর্তন করতে বাধ্য করা হবে।” পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ আশরাফুল হক বলেন— “এ পর্যন্ত মোট বিলের ১৫ শতাংশ প্রদান করা হয়েছে। কাজ এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা ঠিকাদারকে চিঠি দিয়ে সিডিউল অনুযায়ী কাজ করার নির্দেশ দিয়েছি। কোনোভাবেই নিম্নমানের কাজ গ্রহণ করা হবে না।” তিনি আরও বলেন, “প্রয়োজনে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
এই সংবাদটি শেয়ার করুন
অন্যান্য খবর
আজ ১০০ শিক্ষককে সম্মাননা দেবেন প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আজ প্রথমবারের মতো প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরিত...
দুই মাসে সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়েছে ৫৭ শতাংশ
সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে আগ্রহ বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই ও আগস্টে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে দুই হাজার ৪৬৩...
বুড়িচংয়ে পূর্ব শত্রুতার জেরে দুইজনকে কুপিয়ে জখম, লুটপাটের অভ...
নিজস্ব প্রতিনিধি।।কুমিল্লার বুড়িচংয়ে পূর্ব শত্রুতা ও জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে ঢুকে দুইজনকে...
রূপালী ব্যাংক কুমিল্লা বিভাগের ব্যবসায়ী পর্যালোচনা সভা অনুষ...
কুমিল্লা প্রতিনিধি:রূপালী ব্যাংক পিএলসি, কুমিল্লা বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে ৩১ আগস্ট, ২০২৬ তারিখ...
কুমিল্লায় কারিগরি শিক্ষা মেলা ও প্যানেল ডিসকাশন: ইন্ডাস্ট্রি...
আবুল কালাম আজাদকুমিল্লা টাউনহল মাঠে কুমিল্লা জেলা কারিগরি, ভোকেশনাল শিক্ষা ও ট্রেইনিং ইন্সটিটিউশন ফো...
ব্রাহ্মণপাড়ায় নতুন প্রাথমিক শিক্ষকদের ফুল দিয়ে বরণ
মো. আনোয়ারুল ইসলাম।।কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় নতুন যোগদান করা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক...