প্রতিবেদক: Raisul Islam Shohag | ক্যাটেগরি: বৃহত্তর কুমিল্লা | প্রকাশ: 15 May 2026, 12:16 AM
দুই মণ ধানে একজন শ্রমিক
কাজী খোরশেদ আলম,বুড়িচং(কুমিল্লা) সংবাদদাতাঃ
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার অধিকাংশ কৃষক বোরো ধান উৎপাদনের উপর নির্ভর করে সারা বছরের জীবিকা নির্বাহের স্বপ্ন বুনে। তাই এই মৌসুমে যেন ভালো ফলন হওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করে। মাঠে মাঠে পাকা সোনালী ধানের শীষে দোল খায় কৃষকের স্বপ্ন। আর যখন এই স্বপ্ন বিলিন হয়ে যায় বৃষ্টির পানি আর শ্রমিক সংকটের কারণে- তখন তাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। দু'চোখে অন্ধকার দেখতে শুরু করে। দিশেহারা হয়ে যায় কাঁচা সোনা ঘরে তোলার জন্য কিন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি ; তাদের সকল আশা আকাঙ্ক্ষা ম্লান করে দেয়। দুই উপজেলার বড় বড় মাঠগুলোতে যখন ধান পাকতে শুরু করেছে এবং কিছুদিনের মধ্যে মনে সুখে গোলায় তোলার পরিকল্পণা আঁকছে। তখনই অনাকাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির পানি সঠিক ভাবে নিঃষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এতে কৃষকের কপালে দূর্দশা জুটে। একদিকে পানির নিচে চলে যাচ্ছে পাকা ধান অন্যদিকে প্রয়োজনের তুলনায় শ্রমিক সংকট। যারা কষ্ট করে ধান কেটে বাড়িতে আনতে পেরেছে, তারাও সঠিক সময় ধানগুলো শুকাতে না পারায় ঘরেই নষ্ট হচ্ছে। নতুন বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হলেও বুড়িচংয়ে কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ। দুই মণ ধানের দামে মিলছে একজন ধান কাটার শ্রমিকের একদিনের মজুরি। রুগ্ন, হাড়জিরজিরে শরীর নিয়ে জীবিকার তাগিদে ভোর থেকে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ভিড় করছেন শত শত ধান কাটার শ্রমিক। গতকাল ১৪ মে বৃহস্পতিবার ভোর ৫টায় বুড়িচং উপজেলার খাড়াতাইয়া নতুন বাজারে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে হাতে লাঠি ও কাস্তে নিয়ে লুঙ্গি পড়া শত শত শ্রমিক দাঁড়িয়ে আছেন। অনেকের চোখে ঘুমঘুম ভাব। কাজের আশায় অপেক্ষা করছেন তারা উত্তরবঙ্গের কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, রংপুর ও ময়মনসিংহ থেকে আসা এসব শ্রমিকের বেশিরভাগই অপুষ্টিতে ভুগছেন। সন্তানের মুখে দু’বেলা ভাত তুলে দিতে তারা ধান কাটার কাজে এসেছেন এই এলাকায়। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী থেকে আসা ষাটোর্ধ্ব জমির উদ্দিন বলেন, “শরীরে মাংস নাই, শুধু হাড্ডি। পেটের দায়ে আইছি। ১৪০০ টাকার কমে কামে যামু না। আর যদি জমিতে হাঁটু পানি-কাঁদা থাকে, তাইলে ১৮০০ টাকা দেওয়া লাগব।” স্থানীয় কৃষক আব্দুল হামিদ জানান, বর্তমানে এক মণ মোটা ধানের বাজারদর ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা। অর্থাৎ দুই মণ ধান বিক্রি করে একজন শ্রমিকের একদিনের মজুরি দিতে হচ্ছে। এর সঙ্গে রয়েছে তিন বেলা খাবার এবং দু’বেলা বিড়ি-সিগারেট ও নাশতার খরচ। আরেক কৃষক মনির হোসেন বলেন, গত বছর ৯০০-১০০০ টাকায় শ্রমিক পাইছিলাম। এবার খরচ দ্বিগুণ। ধানের দাম কম, খরচ বেশি। এভাবে চললে লাভ তো দূরের কথা, খরচই উঠবে না। শ্রমিকরা বলছেন, বাজারে চাল, ডাল, তেল ও সবজির দাম আকাশ ছোঁয়া। এ ছাড়া উত্তরবঙ্গ থেকে আসতে জনপ্রতি গাড়িভাড়া ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা লাগে। আবার ঝড়-বৃষ্টির কারণে এবার জমিতে পানি জমেছে। কাঁদা-পানিতে কাজ করা কষ্টকর, অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিও বেশি। তাই মজুরি বাড়াতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। ময়মনসিংহ থেকে আসা শ্রমিক কামাল বলেন, “বউ মারা গেছে। তিনটা পোলাপান। হাড্ডিসার শরীর নিয়া আইছি। ১৮০০ টাকা না হইলে পোলাপান কী খাইব।
বুড়িচং উপজেলা কৃষি অফিসার আফরিনা আক্তার বলেন, কৃষি শ্রমিক সংকটের জন্য সরকারকে আরো ভর্তকি প্রদানের মাধ্যমে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়াতে হবে। তাছাড়া বুড়িচং উপজেলার অনেক জমি নিচু। তাই কাঁদা মাটি ও নিচু জমিতে চালানোর মতো প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি প্রদান করতে হবে। তাহলে কৃষি শ্রমিকের,সংকট লাঘব হবে।
এই সংবাদটি শেয়ার করুন
অন্যান্য খবর
স্ত্রীর ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায় কুমিল্লায় ছোট ভাইকে কুপিয়ে হত্যা
কুমিল্লা প্রতিনিধিকুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলায় স্ত্রীর ঘুমে ব্যাঘাত ঘটার জেরে বড় ভাইয়ের দায়ের কোপে...
আধুনিক কুমিল্লা গড়তে কুসিক-গ্রামীণফোনের সমঝোতা স্মারক স্বাক্...
আয়েশা আক্তার।। আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন গড়ার লক্ষ্যে কুমিল্লা সিটি কর্প...
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে কুমিল্লা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলে...
নিজস্ব প্রতিবেদকগণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমা...
হোমনায় কুকুরকে বাঁচাতে গিয়ে নছিমন চালকের মৃ'ত্যু
হোমনা(কুমিল্লা) প্রতিনিধি:কুমিল্লার হোমনায় কুকুর কে বাঁচাতে গিয়ে রুবেল (২৮) নামক এক নছিমন চালক...
খানাখন্দে দুর্ভোগ চরমে
মোঃ মাসুদ রানা বিশেষ প্রতিনিধি।। কুমিল্লা নগরীতে প্রবেশের ৫টি সড়ক চলাচলের অনুপযোগী...
কসবায় বজ্রপাতে স্কুল শিক্ষার্থীর মৃত্যু
কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতাব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বিনাউটি গ্রামে বজ্রপাতে মোঃ ফাহাদ...