কুমিল্লা প্রতিনিধি
জমিতে সাধারণত ধান ও সবজির চাষ হলেও এবার কুমিল্লার বুড়িচংয়ে অডিটরিয়ামেই মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ ও সোনালি ধানের সমারোহ দেখা গেছে। পাশাপাশি প্রদর্শিত হয়েছে বিষমুক্ত উপায়ে উৎপাদিত বিভিন্ন ফল।
‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচার অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)’ কর্মসূচির আওতায় আয়োজিত পার্টনার কংগ্রেসে এই ব্যতিক্রমী প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। রোববার (৩ মে) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বুড়িচং উপজেলার আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা অডিটরিয়ামকে সাজানো হয়েছে বর্ণিলভাবে। প্রবেশপথে তৈরি করা হয় আকর্ষণীয় গেট। রঙিন ক্যাপ পরে কৃষক-কৃষাণীরা অংশ নেন অনুষ্ঠানে, তাদের মধ্যে ছিল উৎসবের আমেজ। অডিটরিয়ামের একপাশে রঙিন বেলুন দিয়ে সাজিয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
প্রদর্শনীতে ফ্লোর বেডে মালচিং পেপার ব্যবহার করে সবজি চাষ এবং টবে বিভিন্ন উন্নত জাতের ধান চাষ প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া ফল, ডালসহ বিভিন্ন খাদ্য উপকরণ দিয়ে তৈরি করা হয় পুষ্টি পিরামিড, যা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
গ্রামের কৃষক মো. মোস্তফা বলেন, “এই কংগ্রেসে এসে জানতে পারলাম কীভাবে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করতে হয় এবং তা ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছানো যায়। উন্নত জাতের চাষ করে কীভাবে লাভবান হওয়া যায়, সেটিও শিখেছি।”
নাছিমা আক্তার বলেন, “কখন সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে এবং কীভাবে ফসল নিরাপদ রাখা যায়—এসব বিষয় আগে জানতাম না। এখন জানার ফলে আমাদের আয় বাড়বে।”
ফরিদ উদ্দিন বলেন, “এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা উন্নত জাতের ধান চাষ করছি। ফলে আমাদের উৎপাদন কয়েকগুণ বেড়েছে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানভীর হাসান। স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আফরিনা আক্তার। প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাবলিহা আনোয়ার, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান, উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি মো. ছাদকুর রহমান এবং বুড়িচং প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী খোরশেদ আলম।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আফরিনা আক্তার বলেন, “আমাদের উপজেলার কৃষক স্কুলের সদস্যরা এই কংগ্রেসে অংশ নিয়েছেন। এখানে উন্নত কৃষি চর্চাসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হয়েছে, যা কৃষকদের জন্য উপকারী।”
উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, “পার্টনার প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন স্থানে কৃষক স্কুল রয়েছে। এই কংগ্রেসে তারা নিজেদের প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করছেন, যা কৃষির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. বিল্লাল হাসান ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফারুক আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুলতানা ইয়াসমিন ও কৃষক প্রতিনিধি মজিবুর রহমানসহ অনেকে। কংগ্রেসে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় ১০০ জন কৃষক অংশগ্রহণ করেন।
এদিকে অতিথিরা কৃষকদের মাঝে কুমিল্লা অঞ্চলে টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ফুট পাম্প, এলএলপি, হ্যান্ড স্প্রেয়ার, রিপার এবং ‘বি-স্ট্রং’ প্রকল্পের আওতায় বীজ সংরক্ষণ পাত্র বিতরণ করেন। পাশাপাশি কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারকরণ প্রকল্পের আওতায়ও হ্যান্ড স্প্রেয়ার বিতরণ করা হয়।