প্রতিবেদক: Raisul Islam Shohag | ক্যাটেগরি: বৃহত্তর কুমিল্লা | প্রকাশ: 31 Mar 2026, 12:11 AM
কুমিল্লা যেন ভোজনবিরতির ফাঁদ! ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে রেস্টুরেন্ট, রিসোর্ট ঘিরে মৃত্যুর মিছিল
মো. জাকির হোসেন
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক—দেশের অর্থনীতির প্রাণরেখা, ভ্রমণপিপাসু মানুষের স্বপ্নযাত্রার পথ। কিন্তু সেই পথেই এখন ভর করেছে এক নীরব আতঙ্ক। কুমিল্লা অংশজুড়ে গড়ে ওঠা বিলাসবহুল রিসোর্ট ও রেস্টুরেন্টগুলোর অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাই যেন হয়ে উঠছে মৃত্যুর ফাঁদ। সম্প্রতি ২৬ মার্চ বুড়িচং উপজেলার কালাকচুয়া এলাকায় ঘটে যাওয়া হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা সেই আশঙ্কাকেই আরও জোরালো করেছে। একটি প্রাইভেটকার হোটেল থেকে বের হওয়ার মুহূর্তে বাসের ধাক্কায় একই পরিবারের ৪ সদস্যসহ মোট ৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু—যা নাড়িয়ে দিয়েছে পুরো দেশকে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রায় ৯৭ কিলোমিটার দীর্ঘ কুমিল্লা অংশ দিয়ে প্রতিদিন ছুটে চলে অন্তত ৩০ হাজারের বেশি দ্রুতগতির যানবাহন। রাজধানী ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বন্দর, কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত কিংবা পাহাড়ি জনপদ—সবকিছুর সংযোগ এই এক সড়কেই। এই দীর্ঘ যাত্রায় ক্লান্তি কাটাতে যাত্রীরা থামে রিসোর্ট ও রেস্টুরেন্টে। আর সেই সুযোগেই গত কয়েক দশকে গড়ে উঠেছে অসংখ্য বিলাসবহুল প্রতিষ্ঠান—খন্দকার ফুড গ্যালারী, ফুড ভ্যালী, মিয়ামি রিসোর্ট, মায়ামি, নুর মহল, টাইম স্কয়ার, হাইওয়ে এনন সহ আরও অনেক।
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে—এই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রবেশ ও বহির্গমন পথেই লুকিয়ে আছে বিপদ। নিরাপত্তাহীন প্রবেশপথ: দুর্ঘটনার মূল কারণ অনেক রিসোর্টে ঢুকতে বা বের হতে: সরাসরি ইউ-টার্ন নেই, উল্টো পথে গাড়ি চালাতে হয়, অননুমোদিত লিংক রোড ব্যবহার করা হয়, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়—নিরাপত্তা প্রহরীদের দায়িত্বে রয়েছে চরম গাফিলতি। ফলে দ্রুতগতির মহাসড়কে ওঠা কিংবা বের হওয়ার সময় প্রায়ই ঘটছে ভয়াবহ দুর্ঘটনা।
২৬ মার্চের ঘটনাটিও ছিল ঠিক এমনই এক অব্যবস্থাপনার করুণ পরিণতি। নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি থেকে আসা মুফতি আব্দুল মোমেন তার পরিবারসহ ঢাকায় ফেরার পথে খাবারের জন্য মিয়ামি রিসোর্টে ঢোকেন। কিন্তু ফেরার সময়ই ঘটে যায় সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট লিংক রোডটি পিলার বসিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। আশপাশের আরও কয়েকটি অননুমোদিত সংযোগ পথও বন্ধ করা হয়েছে। ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার ওসি মো. আব্দুল মোমিন জানান, উল্টো পথে চলাচলকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দেওয়া হচ্ছে। হোটেল ও পেট্রোল পাম্পের অবৈধ সংযোগ ব্যবহারে কঠোর নজরদারি চলছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি এটি এম মিজানুর রহমান চেয়ারম্যান বলেন, প্রশাসনের কাছে বারবার অনুরোধ করা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অন্তত ২০টি চিঠি দেওয়ার পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি বলে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষায়, “দুর্ঘটনা রোধে জনসচেতনতা জরুরি, পাশাপাশি উল্টো পথে গাড়ি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।” মন্তব্য ও শেষ কথা: নিরাপত্তা না থাকলে উন্নয়নও ব্যর্থ। এই মহাসড়ক শুধু একটি রাস্তা নয়—এটি দেশের অর্থনীতি, পর্যটন এবং মানুষের স্বপ্নযাত্রার প্রতীক। অথচ সেই পথেই যদি জীবন ঝরে পড়ে অবহেলায়, তবে উন্নয়ন প্রশ্নবিদ্ধ হয়। একটি পরিবার হারানোর শোক যেন আর কোনো পরিবারের ভাগ্যে না জোটে—এখনই প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ, কঠোর নজরদারি এবং দায়িত্বশীলতা।
এই সংবাদটি শেয়ার করুন
অন্যান্য খবর
প্রথমার্ধের তিন গোলে ব্রাজিলের স্বস্তির জয়
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের খেলা চলছে তখন। দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করে কোমর দুলিয়ে নেচে উদযাপন করলেন ভিনিস...
৯৬ বছর আগের স্মৃতি ফিরিয়ে নকআউটে যুক্তরাষ্ট্র
উদ্বোধনী আসরে প্রথম দুই ম্যাচে জয়, তারপর থেকে বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের টানা জয় আর ধরা দিচ্ছিল না কিছ...
স্থানীয়দের দুর্ভোগ কমাতে সেতু নির্মাণের ঘোষণা ঘোষণা এমপি জসি...
মো. আনোয়ারুল ইসলাম।।কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নকাজ...
অবৈধ গ্যাস সংযোগ, ১ কোটি ৬১ লাখ টাকার ক্ষতি: গ্রেপ্তার ২
বেলাল উদ্দিন আহাম্মদ, মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃকুমিল্লার মুরাদনগরে অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করে...
বাঞ্ছারামপুরে তিতাস নদীর তীরে জিও ব্যাগে বাঁধ নির্মাণের কাজে...
ফয়সল আহমেদ খান, বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার উ...
পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের গবেষণা কার্যক্রম ও সম্ভাবনাময় ফ...
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধিমাটির স্বাভাবিক গুণাগুণ সংরক্ষণ ও কৃষি উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৬৪ সালে খাগড়াছড়ি জেলার র...