প্রতিবেদক: Raisul Islam Shohag | ক্যাটেগরি: বিনোদন | প্রকাশ: 25 Oct 2025, 8:33 PM
অভিনেত্রী হিসেবে গড়ে ওঠার গল্প শোনালেন বাঁধন
ঢালিউড অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন লাক্স সুন্দরী থেকে নায়িকা-এরপর নিজেকে পুরোদস্তুর অভিনেত্রী হিসেবে গড়ে তোলার পেছনের গল্প শোনালেন তিনি। জানালেন তথাকথিত ‘আদর্শ নারী’র খোলস ছেড়ে একজন পরিপূর্ণ ‘মানুষ’ হয়ে ওঠার সংগ্রামী জীবনের কথা-যেখানে যাত্রাপথে তাকে ডিভোর্স, রিহ্যাব সেন্টার, তীব্র যাতনা ও আইনি লড়াইয়ের মতো কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। একটি অনুষ্ঠানে নিজের জীবনের না বলা কথা দর্শক-শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন এ জনপ্রিয় অভিনেত্রী। স্মৃতিচারণা করে অভিনেত্রী বলেন, প্রথমে যখন আমি লাক্স থেকে বের হই, তখন সবাই আমাকে ‘লাক্স বা সাবান সুন্দরী’ বলত। সেই সময় ওটা আমি উপভোগ করতাম। কিন্তু অল্প বয়সেই মনে হয়েছিল-পড়ালেখা শেষ করাটা জরুরি। ব্যক্তিগত জীবনের এই উত্থান-পতনই তাকে অভিনয়ে নতুন করে প্রাণ দিয়েছে। একসময় শুধু টাকার জন্য অভিনয় করলেও পরে থেরাপিস্টের এক প্রশ্নে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেন তিনি। এরপরই তার জীবনে আসে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’-এর মতো সিনেমা। পরিচালক আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বাঁধন বলেন, তিনিই আমাকে একজন অভিনেত্রী হিসেবে নতুন করে জন্ম দিয়েছেন। নিজের জীবনের অন্ধকার জীবনের কথা তুলে ধরে অভিনেত্রী বলেন, আমার বিয়ে হয় ১৯ বছর বয়সে। ডিভোর্সের পর আমার শেষ পরিণতি হয় একটা রিহ্যাব সেন্টারে। আমি সিভিয়ার ডিপ্রেশনের পেশেন্ট ছিলাম, সঙ্গে সুইসাইডাল টেন্ডেন্সি ছিল। তিনি বলেন, ‘আমি ক্রনিক ডিপ্রেশনের পেশেন্ট, আমার বর্ডারলাইন পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার আছে এবং আমি নিয়মিত অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট খাই। এগুলো নিয়ে কথা বললে সবাই আমাকে পাগল ভাববে। আমাকে কিন্তু পাগল বলেছেও। যখন কেউ কথায় পারে না, তখন বলে-তোমার তো মাথা খারাপ। কিন্তু তাতে আমার কিছু আসে যায় না। কারণ আমি ভালো আছি। বাঁধন বলেন, আমি সেখান থেকে সারভাইভ করেছি। তিনি বলেন, জীবনে বহুবার এমন হয়েছে, যখন আমি শুধু ভেঙে পড়িনি, একেবারে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিলাম। তখন বিষণ্ণতা ছাড়া আর কিছুই ছিল না আমার জীবনে। অভিনেত্রী বলেন, ২০১৮ সালের একটি ঘটনা তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সন্তানের অভিভাবকত্ব নিয়ে আইনি লড়াইয়ের কথা শুরু হয়। তিনি বলেন, আমার সন্তানের বাবা আমার কাছ থেকে তাকে কেড়ে নিতে চেয়েছিল। ওই ঘটনা আমাকে পুরোপুরি বদলে দেয়। বাঁধন বলেন, যেই সমাজে আমি বেড়ে উঠেছি, সেই সমাজ, দেশের আইন, এমনকি আমার পরিবার-সবাই আমাকে বলেছিল, না, এভাবে হবে না। আমরা যেভাবে সেট করে দিয়েছি, তোমাকে সেটাই মেনে নিতে হবে। তবে সমাজের বেঁধে দেওয়া নিয়মের কাছে হার না মেনে তিনি আইনি লড়াইয়ে নামেন এবং মেয়ের সম্পূর্ণ অভিভাবকত্ব লাভ করেন, যা ছিল উপমহাদেশের জন্য একটি যুগান্তকারী রায়। অভিনেত্রী বলেন, ওই সময়টায় আমি সবচেয়ে অসহায় বোধ করেছি। নিজেকে একদম ভেঙেচুরে ফেলার পর আমি ওখান থেকে উঠে দাঁড়িয়েছি। আমার মনে হয়েছিল, এই সমাজে আমি মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকব। আমার অধিকার আমাকেই বুঝে নিতে হবে।
এই সংবাদটি শেয়ার করুন
অন্যান্য খবর
ইংল্যান্ড ছেড়ে স্পেনে যাচ্ছেন রোমেরো
বেশ কিছুদিন ধরেই আর্জেন্টিনার বিশ^কাপজয়ী ডিফেন্ডার ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর দল পরিবর্তন নিয়ে গুঞ্জন চলছিল...
যে কারণে আশিয়ান কাপ থেকে সরে দাঁড়াল ভারত
ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ভারতের মাটিতে খেলতে আসছে পাঁচবারের বিশ^চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল| আগামী অক্টোবরে ¯^া...
বাংলাদেশ সফর নিয়ে যা বললো ভারত
চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ভারতের| তবে নানা কারণে এখনো দুই বোর্ডের পক্ষ থেকে চূড়া...
অস্ট্রেলিয়ায় ইতিহাস গড়লেন তামিম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করেছেন তানজিদ হাসান তামিম| মিচেল স্টার্ক, প্যা...
ডারউইনে চালকের আসনে টাইগাররা
ডারউইনে ¯^প্নের মতো শুরুর পর টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষেও চালকের আসনে বাংলাদেশ| হাসান-তাসকিনদের আগুনে ব...
জাপানের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ভারী বৃষ্টিতে ৫ জনের মৃত্যু
এফএনএস বিদেশ: জাপানের পূর্বাঞ্চলে ‘নজিরবিহীন’ ভারী বৃষ্টিতে অন্তত পাঁচজনের প্রাণহানি ঘটেছে| এতে নারি...