নিজস্ব প্রতিবেদক, দাউদকান্দি
কুমিল্লার দাউদকান্দি পৌরসদরের ডিকে হাসপাতাল মিলনায়তনে
ডিকে হাসপাতালকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের প্রতিবাদে
সংবাদ সম্মেলন আজ সোমবার ২৬ অক্টোবর সন্ধ্যা সোয়া সাতটায় হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ডিকে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নুরুজ্জামান।এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিকে হাসপাতালের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন বেপারী, গৌরীপুর সুবল আফতাব উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. কামরুজ্জামান ও সমাজসেবক মো. স্বপন প্রমুখ।
"সংবাদ সম্মেলন" ডিকে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নুরুজ্জামান বলেন,
আপনারা ইতিমধ্যে অবগত আছেন, গত কয়েকদিন যাবত ধারাবাহিকভাবে একটি কুচক্রী মহল ডিকে হাসপাতালের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।
মূলত এই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচারের প্রকৃত সত্য আপনাদের এবং দেশবাসীর সামনে তুলে ধরার জন্যেই আজকের এই আয়োজন।
ঘটনার প্রকৃত সত্য: গত ২২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে গৌরীপুর সুবল আফতাব উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সিনিয়র শিক্ষক আমাদের হাসপাতালে সেবা নিতে আসেন। সেখানে একটি সেবার চার্জ সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি কিছুটা আপত্তি তোলেন। এতে রিসিপশনে সিনিয়র শিক্ষক মহোদয়ের সঙ্গে সামান্য ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়।
বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের কর্তৃপক্ষের নজরে আসা মাত্রই আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সেই সম্মানিত সিনিয়র শিক্ষককে তাঁর সন্তুষ্টি অনুযায়ী সেবাটি প্রদান করি এবং বিষয়টি ওখানেই সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে মীমাংসা হয়ে যায়।
শিক্ষক মহোদয়ও তখন সন্তুষ্টচিত্তে ও খুশি মনে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে যান।
অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, মীমাংসিত এই ঘটনাটিকে পুঁজি করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের গোপন ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে
দিয়ে একজন উচ্চ শিক্ষিত নারী রিসিপশনিষ্টকে এবং হাসপাতালের মানহানির মত জঘন্যতম কাজে লিপ্ত হয়।
হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তোলতে ব্যর্থ হয়ে তারা অপপ্রচার চালাচ্ছে যে ডিকে হাসপাতালের রিসিপশনিস্টদের ব্যবহার খারাপ। পারিপার্শ্বিক দিক বিবেচনা করলে দেখা যায় বাংলাদেশের যেকোন পাবলিক ফাংশানে মাঝে সাজে পরস্পরের মধ্যে ভুল বুজাবুঝির ঘটনা ঘটে থাকে, যা আমরা সকলেই জানি, এটিই প্রথম ঘটনা নয়। এমন ঘটনা বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলের মানুষের কাছে খুবই পরিচিত হলেও আমাদের কর্তৃপক্ষ যেকোন অনাকাঙিক্ষত পরিস্থিতিতে বিব্রতবোধ করার পাশাপাশি পদক্ষেপ গ্রহন করে থাকি।
এহেন পরিস্থিতে আমরা এই ভিত্তিহীন ও মানহানিকর অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
আপনারা জানেন,
ডিকে হাসপাতাল ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আমাদের দাউদকান্দি, মেঘনা, তিতাস এবং মতলব উপজেলার সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয়ে সেবা কার্যক্রম শুরু করি।
এর আগে এই জনপদে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য ছিল না। আমরাই প্রথম আধুনিক স্বয়ংক্রিয় মেশিনারিজের মাধ্যমে মানবদেহের বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ে স্বনামধন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পরামর্শ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং প্রায় সকল বিভাগের সর্বোচ্চ মানের অপারেশন সেবা কার্যক্রম চালু করি।
একটি পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও আধুনিক পরিবেশে গুণগত চিকিৎসা সেবা আমরাই প্রথম নিশ্চিত করতে পেরেছি।
আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল- ঢাকার বিকল্প হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা।
আনন্দের সাথে বলতে চাই, আমরা আমাদের সেই স্বপ্নের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।
আমাদের এই অভাবনীয় সাফল্য ও জনগণের ভালোবাসায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি কুচক্রী মহল আমাদের সুনাম ক্ষুন্ন করতে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। আমরা সব সময় সুস্থ্য প্রতিযোগিতাকে সাধুবাদ জানাই, কিন্তু কোনো ধরনের অসুস্থ্য ও ষড়যন্ত্রমূলক প্রতিযোগিতাকে ঘৃণা করি।
আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে আপনাদের সামনে সেদিনের সেই সম্মানিত সিনিয়র শিক্ষক মহোদয় সশরীরে উপস্থিত রয়েছেন। এমন গুপ্ত ভিডিওতে তাকে সংযুক্ত করায় তিনি এতোটাই বিব্রত, তিনি একটা ট্রমার মধ্যদিয়ে সময় পার করছেন। তার মানষিক অবস্থা দেখে আমরাও দুশ্চিন্তায় আছি।
তিনি একজন স্বজ্জন ব্যক্তি ও জনপ্রিয় সিনিয়র শিক্ষক, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিনা অনুমতিতে প্রচার করে স্যারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার পাশাপশি হাসপাতালেরও ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছেন।
পরিশেষে,আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আজ এখানে উপস্থিত হওয়ার জন্য সকল গণমাধ্যমকর্মী ও সাংবাদিক ভাইদের অশেষ ধন্যবাদ জানাই। পাশাপাশি, আমাদের সম্মানিত সেবাগ্রহীতাদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাই- অতীতের মতো ভবিষ্যতেও আপনারা আমাদের পাশে থাকবেন এবং আমাদের সেবা গ্রহণ করে আমাদের উৎসাহিত করবেন।
আমরা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ, ডিকে হাসপাতাল ভবিষ্যতে আপনাদের আরও বেশি আধুনিক, নির্ভরযোগ্য ও যুগোপযোগী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।