আব্দুল্লাহ, কুবি প্রতিনিধি :
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) নতুন ২১৩ একর ক্যাম্পাসকে শুধু নামেই নয়, বাস্তব অর্থেই একটি টেকসই গ্রিন ক্যাম্পাসে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় উপাচার্য কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘ডেভেলপিং স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক ফর সাসটেইনেবল গ্রিন ক্যাম্পাস অব কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি’ শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় ক্যাম্পাস শালবন বিহারের নিকটবর্তী এলাকায় অবস্থিত। বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেলেও প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর নানা ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ও শালবন বিহারকে ঘিরে গড়ে ওঠা বিনোদন ও পর্যটনকেন্দ্রের কারণে শব্দদূষণসহ পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
একটি দায়িত্বশীল ও গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পরিবেশ সংরক্ষণে দায়িত্ব রয়েছে। সে বিবেচনায় প্রথম ক্যাম্পাসে পাহাড় ও প্রাকৃতিক ভূপ্রকৃতি যতটা সম্ভব অক্ষুণ্ণ রেখে স্থাপনা নির্মাণসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করছি আমরা। তারই ধারাবাহিকতায় এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ক্যাম্পাসেই প্রায় ৫ হাজার বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে নতুন ২১৩ একর ক্যাম্পাসকে শুধু নামেই নয়, বাস্তব অর্থেই একটি গ্রিন ক্যাম্পাসে পরিণত করা। প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ করে, দূষণ কমিয়ে এবং টেকসই উন্নয়নের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি মডেল বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে চাই। এছাড়াও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে এমন একটি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চাই, যা দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্যও একটি অনুসরণযোগ্য মডেল হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘Learn, Create, Connect and Lead’—এই চারটি মূল দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার্থীদের শুধু জ্ঞান অর্জন নয়, পরিবেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবেও গড়ে তুলতে চাই।
বাংলাদেশের বাস্তবতায় একটি ক্যাম্পাসকে সত্যিকার অর্থে পরিবেশবান্ধব করা সহজ নয়। এর জন্য মানসিকতার পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রয়োজন প্রযুক্তির ব্যবহার, কার্যকর নীতিমালা, পর্যাপ্ত বাজেট এবং সরকার ও সচেতন মহলের সমন্বিত উদ্যোগ। নতুন ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের ছয় মাস থেকে এক বছর আগেই সেই প্রস্তুতি শুরু করতে চাই। বর্তমান ক্যাম্পাস থেকেই শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণের মানসিকতা তৈরি করা হবে, যাতে নতুন ক্যাম্পাসে যাওয়ার আগেই একটি পরিবেশবান্ধব সংস্কৃতি গড়ে ওঠে।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ও আইকিউএসি'র পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান।
এছাড়া কর্মশালায় বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও সাবেক উপাচার্য ড. জসিম উদ্দিন আহমদ, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবিব, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. শফি মোহাম্মদ তারেক, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান শাখার সাবেক প্রধান অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ হারুন চৌধুরী এবং অর্থনীতি শাখার সাবেক প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হায়দার। এ সময় বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও বিভাগের বিভাগীয় প্রধানরাও উপস্থিত ছিলেন।