প্রতিবেদক: Raisul Islam Shohag | ক্যাটেগরি: বিনোদন | প্রকাশ: 1 Aug 2026, 3:19 PM
কুমিল্লার ‘টাঙ্গুয়ার হাওর’ এখন মকিমপুর পশ্চিম বিল, বর্ষায় সৌন্দর্যে মুগ্ধ হাজারো মানুষ
মো. আনোয়ারুল ইসলাম, ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি।।
বর্ষা নামলেই যেন নতুন রূপে জেগে ওঠে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের মকিমপুর পশ্চিম বিল। যত দূর চোখ যায়, শুধু জল আর জল। তার মাঝখান দিয়ে এঁকেবেঁকে চলে গেছে কাঁচা মাটির একটি পথ। পথের দুই পাশে পানির ঢেউ এসে আলতো করে আছড়ে পড়ে। চারদিকে সবুজে ঘেরা বিস্তীর্ণ জলরাশি, শীতল বাতাস আর গোধূলির লাল আভায় আঁকা সূর্যাস্ত—সব মিলিয়ে যেন প্রকৃতি নিজের হাতে এঁকেছে এক জীবন্ত জলরঙের ছবি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিলটির মনোমুগ্ধকর ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এটি এখন অনেকের কাছেই পরিচিত হয়েছে ‘কুমিল্লার টাঙ্গুয়ার হাওর’ নামে। বর্ষার সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও আশপাশের জেলা থেকে ছুটে আসছেন হাজারো দর্শনার্থী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মকিমপুর এবং মুরাদনগর উপজেলার ডালপা গ্রামের মধ্যবর্তী বিস্তীর্ণ এই বিলের বড় অংশ মুরাদনগরে অবস্থিত। মুরাদনগরের মানুষ একে ‘ডালপা বিল’ নামে চিনলেও ব্রাহ্মণপাড়ার বাসিন্দাদের কাছে এটি ‘মকিমপুর পশ্চিম বিল’ হিসেবেই পরিচিত।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক হাজার একর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই বিলের এক পাশে রয়েছে প্রায় ৬০০ একর এবং অন্য পাশে প্রায় ৪০০ একর জলাভূমি। বর্ষার পানি এসে পুরো বিল কানায় কানায় ভরে গেলে চারপাশের প্রকৃতি যেন এক অপার্থিব সৌন্দর্যে রূপ নেয়।
ছুটির দিনে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদরের নুরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ফেসবুকে বিলটির সৌন্দর্য দেখে এখানে আসার ইচ্ছা হয়েছিল। বাস্তবে এসে দেখলাম, ছবির চেয়েও অনেক বেশি সুন্দর। তবে পর্যাপ্ত নৌকা না থাকায় কিছুটা আফসোস থেকেই গেল।
দেবিদ্বার উপজেলার বাসিন্দা শাহীন আলম বলেন, আষাঢ়, শ্রাবণ ও ভাদ্র—এই তিন মাস বিলটি পানিতে ভরে থাকে। তখন এর সৌন্দর্য সত্যিই চোখ জুড়িয়ে দেয়।
বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে আসা কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তাসনুবা শান্তা বলেন, এখানে এসে মনে হচ্ছে প্রকৃতির খুব কাছাকাছি চলে এসেছি। তবে পর্যাপ্ত নৌকা, খাবারের দোকান ও বিশ্রামের ব্যবস্থা থাকলে দর্শনার্থীদের জন্য আরও ভালো হতো।
বিলে নৌকাভ্রমণের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন যুবক জানান, প্রতি ঘণ্টায় ৪০০ টাকা ভাড়ায় তাঁরা দর্শনার্থীদের বিল ঘুরিয়ে দেখান। কিন্তু নৌকার সংখ্যা কম হওয়ায় অনেক সময় আগ্রহী মানুষকে অপেক্ষা করতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মার্টিন আলী খান জানান, একসময় এই বিলকে কেন্দ্র করে কুটি, কালীগঞ্জ, সিদ্ধিরগঞ্জ, বাঙ্গরা, বাঞ্ছারামপুর, নবীনগর ও সংচাইলসহ আশপাশের এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্য গড়ে উঠেছিল। ব্যবসায়ীরা নৌপথে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। সময়ের সঙ্গে নৌপথের ব্যবহার কমে যাওয়ায় সেই ঐতিহ্যের অনেকটাই হারিয়ে গেছে।
স্থানীয় স্কুলশিক্ষক এরশাদ মিয়া বলেন, বর্ষা মৌসুমে প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ হাজার মানুষ এখানে ঘুরতে আসেন। দর্শনার্থীর সংখ্যা প্রতিবছরই বাড়ছে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, নিরাপত্তা, পর্যাপ্ত নৌকা, খাবারের ব্যবস্থা ও পর্যটনসুবিধা নিশ্চিত করা গেলে মকিমপুর পশ্চিম বিল সহজেই দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্যে কিছুটা সময় কাটাতে কিংবা ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি দূর করতে যারা নিরিবিলি পরিবেশ খুঁজছেন, তাঁদের জন্য মকিমপুর পশ্চিম বিল হতে পারে এক অনন্য গন্তব্য। সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি উদ্যোগে এই অপরূপ জলাভূমি শুধু কুমিল্লার নয়, দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র হিসেবেও প্রতিষ্ঠা পেতে পারে।
এই সংবাদটি শেয়ার করুন
অন্যান্য খবর
তারেক রহমানের নেতৃত্বে পূর্ণ আস্থা যুক্তরাষ্ট্রের : সার্জিও...
এই বার্তাটি তিনি তার দেশের বিনিয়োগকারীদের কাছে পৌঁছাবেন বলে জানিয়েছেন। শনিবার (১ আগস্ট) সকাল সা...
ফিফার নতুন সিদ্ধান্তে বেকায়দায় আর্জেন্টিনা
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে আর্জেন্টিনার। সেই ক্ষত আরো বাড়ল ফিফার নতু...
কুমিল্লা জেলায় সেরা কৃতিত্ব অর্জন করেছে মাখযানুল উলূম মাদ্রা...
নিজস্ব প্রতিবেদক, সদর দক্ষিণইতমিনান বোর্ডের অধীনে ২০২৫ সালের বৃত্তি পরীক্ষায় কুমিল্লা জেলার মধ্যে শ্...
মেজর আবদুল গণি মুক্ত স্কাউট গ্রুপের মিটিং ও পুরস্কার বিতরন
নিজস্ব প্রতিবেদকমেজর আবদুল গণি মুক্ত স্কাউট গ্রুপের যে সকল রোভাররা দ্বাদশ জাতীয় রোভার মুটেঅংশগ্রহনের...
ইউরোপীয় কমিশনের পিআইসি নিবন্ধন পেল কুবি
আব্দুল্লাহ, কুবি প্রতিনিধি:ইউরোপীয় কমিশনের পার্টিসিপ্যান্ট আইডেন্টিফিকেশন কোড (পিআইসি) নিবন্ধন পেল...
বাঞ্ছারামপুরে ৭ ঘণ্টার চেষ্টায় ফেরিঘাটে দূর্ঘটনায় নিহতের লাশ...
ফয়সল আহমেদ খান, বাঞ্ছারামপুর প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে মেঘনা নদী...