প্রতিবেদক: Raisul Islam Shohag | ক্যাটেগরি: বৃহত্তর কুমিল্লা | প্রকাশ: 29 Apr 2026, 12:14 PM
তিতাসে ˆবরী আবহাওয়ার কবলে বোরো ধান কাটা ও মাড়াই নিয়ে বিপাকে কৃষক
নাজমুল করিম ফারুক :
কুমিল্লার তিতাসে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বোরো ধান কাটা ও মাড়াই নিয়ে
বিপাকে পড়েছে কৃষক| গত তিন দিন যাবৎ তিতাসের ˆবরী আবহাওয়া বিরাজ করায়
উপজেলার ৭৫ শতাংশ বোরা ধান চাষী এ বিপাকে পড়েছে| বিশেষ করে শ্রমিক সংকট
মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে|
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার তিতাসের ২৭টি ব্লকে ৬ হাজার ৭৩৫
হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে| যার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ৮০০ হেক্টর| লক্ষ্যমাত্রার
চেয়ে ৬৫ হেক্টর জমিতে আবাদ কম হয়েছে| পুরাতন ব্রি ধান-২৯, ব্রি ধান-৮৯ ও ব্রি
ধান-৯২সহ অন্যান্য জাতের পাশাপাশি এবার জিংক সমৃদ্ধ ব্রি ধান-১০২, খরা সহজনশীল
ব্রি ধান-১০০ এবং সুগন্ধিময় ব্রি ধান-১০১, ব্রি ধান-১০৪ ও ব্রি ধান-১০৮ চাষ করা
হয়েছে| গত এক সপ্তাহ যাবৎ সকল জাতের ধানগুলো কর্তন করা হচ্ছে| তবে গত
তিনদিন যাবৎ ˆবরী আবহাওয়া বিরাজ করায় ধান কাটা শ্রমিকের সংকট, নিম্নাঞ্চাল
প্লাবিত হওয়াসহ সিদ্ধ ধান শুকানো নিয়ে কৃষকরা বিপাকে পড়েছে|
উপজেলার কড়িকান্দি ব্লকের বিরামকান্দি গ্রামের মো. মহিউদ্দিন ভূঁইয়া মাহিদ
জানান, এবার আমি ৪০ শতক জমিতে বোরো আবাদ করেছিলাম| কাটা ও মাড়াই শেষ
করে রবিবার সারাদিন-রাত প্রায় ৩২ মন ধান সিদ্ধ করেছি| সিদ্ধ করা অবস্থায় আকাশ
খারাপ হয়ে পড়ে আছে| ঘরের দুটি কক্ষে সিদ্ধ ধানগুলো রাখা হয়েছে| এগুলো নিয়ে খুব
দুঃচিন্তায় আছি|
কালাইগোবিন্দপুর ব্লকের ঐচারচর গ্রামের কৃষক মো. সাত্তার জানান, গত দুইদিন
যাবৎ এলাকার অনেকে ধান কাটার জন্য শ্রমিক পাচ্ছে না| গাজীপুর বাস স্টেশনে
সকালে শ্রমিকের হাটে এখন কোন শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না| পাকা ধান নিয়ে
অনেক কৃষক বিপাকে আছে|
বৈদ্যারকান্দি ব্লকের রামভদ্রা গ্রামের কৃষক মো. শামসুল হক জানান, এবার আমি
ব্রি ধান-১০৪সহ ৩ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছি| এরমধ্যে মাত্র ৫ শতক জমির
ধান কাটা হয়েছে| জমির ৭০ শতাংশ ধান পাকা অবস্থায় বিরাজ করছে| ˆবরী আবহাওয়ার
কারণে শ্রমিক সংকট হওয়ায় ধান কাটতে পারছি না| তবে জমির যে অংশটুকু বেশী
পেকে গিয়ে নুয়ে পড়েছে সেগুলো পরিবারের সদস্যরা মিলে ˆবরী আবহাওয়ার মধ্যেই
কেটে স্তপ করছি|
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. কাউছার আহমেদ জানান, ˆবরী আবহাওয়ার কারণে
নানাহ সংকট সৃষ্টি হয়েছে| তবে এই মুহুর্তে নুয়ে পড়া ও প্লাবিত হওয়া পাকা ধান
কেটে ফেলতে হবে| বর্তমানে বেশীর ভাগ এলাকায় বোরো ধানের ৭০ শতাংশ পাকা
অবস্থায় আছে| আগামী দুই-তিন দিন পর উক্ত ধানগুলো কাটার উপযুক্ত হবে|
উপজেলা কৃষি অফিসার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ইতিমধ্যে উপজেলার ২৫
শতাংশ পাকা ধান কাটা হয়ে গেছে| তবে বিশাল এলাকার ৭০ শতাংশ ধান জমিতে
পাকা অবস্থায় আছে| সেটি ৮০ শতাংশে উন্নীত হলে কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া
এই সংবাদটি শেয়ার করুন
অন্যান্য খবর
চট্টগ্রামের মানুষের কষ্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর
এফএনএস: চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতায় নগরবাসীর চরম ভোগান্তিতে দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা ত...
এমপি হাসনাতের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান যা বললেন
মোঃ মাসুদ রানা কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের...
বৃষ্টির পানিতে সয়লাব নগরী
অশোক বড়ুয়াকুমিল্লায় কালবৈশাখীর ঝড় ও বৃষ্টিতে নগরীর প্রায় সব এলাকা পানিতে সয়লাব হয়ে পড়েছে| কালবৈশাখী...
সদর দক্ষিণে দুই দিন ধরে বিদ্যুৎহীন দশ গ্রামের মানুষ,
নিজস্ব প্রতিবেদক, সদর দক্ষিণকুমিল্লা সদর দক্ষিণে কালবৈশাখী ঝড় ও মুষলধার বৃষ্টিতে পল্লী বিদ্যুৎ সঞ্চা...
চৌদ্দগ্রামে মাদক নিয়ে সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু
এমরান হোসেন বাপ্পিকুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের জের ধরে আহত হওয়া যুবক বশি...
ব্রাহ্মণপাড়ায় কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, হাজারের বে...
মো. আনোয়ারুল ইসলাম, ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি।।কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় টানা দুই দফা কালবৈশাখ...