প্রতিবেদক: Raisul Islam Shohag | ক্যাটেগরি: বৃহত্তর কুমিল্লা | প্রকাশ: 16 Mar 2026, 10:21 AM
চান্দলা কেবি হাইস্কুলে কোচিং ও গাইড বাণিজ্যের অভিযোগে তদন্তে নামল প্রশাসন
মো. আনোয়ারুল ইসলাম।।
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চান্দলা করিম বক্স উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে ছুটির মধ্যে বাধ্যতামূলক কোচিং, অতিরিক্ত ফি আদায় এবং গাইড বই বাণিজ্য ও উপবৃত্তির তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে প্রকাশিত সংবাদের পর প্রশাসনের তৎপরতা আরও জোরদার হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দেওয়া কারণ দর্শানোর জবাবে সন্তুষ্ট না হয়ে উপজেলা প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ মার্চ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা জাহান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে অভিযোগগুলো সরেজমিনে তদন্ত করে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গঠিত তদন্ত কমিটিতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে সদস্য এবং উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টরকে সদস্য-সচিব করা হয়েছে।
এর আগে গত ৩ মার্চ বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে ‘কুমিল্লার চান্দলা কেবি হাইস্কুলে ছুটির মধ্যেও বাধ্যতামূলক কোচিং, সাড়ে ৪ লাখ টাকা নিয়ে গাইড বই কিনতে চাপ’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পরপরই বিষয়টি আমলে নেয় উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগ।
এরপর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়। নোটিশে রমজানের ছুটির মধ্যেও শিক্ষার্থীদের কোচিং করতে বাধ্য করা, ১২ দিনের কোচিংয়ের জন্য শিক্ষার্থীপ্রতি ১৪০০ টাকা ফি নির্ধারণ, নির্দিষ্ট প্রকাশনীর গাইড বই কিনতে চাপ প্রয়োগ এবং উপবৃত্তির তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ লিখিত জবাব জমা দিলেও প্রশাসন সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি। ফলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও বিস্তারিত অনুসন্ধানের জন্য তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও প্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মাহমুদা জাহান জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা জাহান বলেন, “শিক্ষার্থীদের স্বার্থবিরোধী কোনো কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে আসে, বিদ্যালয়ের প্রায় ছয় শতাধিক শিক্ষার্থীকে ছুটির মধ্যেও নিয়মিত কোচিং করতে বাধ্য করা হচ্ছিল। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা কোচিং ফি কমানোর আবেদন করে কোচিং বর্জন করলে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করেন কয়েকজন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক। এছাড়া নির্দিষ্ট দুটি প্রকাশনী সংস্থার কাছ থেকে কমিশন নিয়ে শিক্ষার্থীদের গাইড বই কিনতে বাধ্য করার অভিযোগও ওঠে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের ধারাবাহিক পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল।
এই সংবাদটি শেয়ার করুন
অন্যান্য খবর
কুমিল্লা ওয়াসা গঠনের সিদ্ধান্ত
আয়েশা আক্তার।। কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী এর আবেদনের প্রেক্ষিতে কুমিল্লা ওয়াস...
কুমিল্লা জেলা পুলিশের অনন্য অর্জন
আয়েশা আক্তার।। অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্ব...
কুমিল্লায় প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে এসএসএফের কড়া নিরাপত্তা জো...
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা।। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর কুমিল্লা আগমনকে কেন্দ্র করে প্রশাসন ও রা...
কুমিল্লায় বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিনসহ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গ...
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা।কুমিল্লায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিনসহ এক অস্ত্রধারী সন্ত্...
কুমিল্লায় জেলা তথ্য অফিসের প্রেস ব্রিফিং
আয়েশা আক্তারকুমিল্লায় জেলা তথ্য অফিসের গত তিন মাসের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে এক প্রেস ব্রিফিং অনুষ...
আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ডিনের দায়িত্ব প্রত্যাখ্যান কুবি শিক্...
কুবি প্রতিনিধি: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কলা ও মানবিক অনুষদের নবনিযুক্ত ডিন অধ্যাপক ড...