প্রতিবেদক: Raisul Islam Shohag | ক্যাটেগরি: বৃহত্তর কুমিল্লা | প্রকাশ: 27 Feb 2026, 12:44 AM
সরকার দেশকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে চায়-প্রধানমন্ত্রী
এফএনএস
জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দেশকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে একুশে বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন ঘোষণার পরপরই সর্বসাধারণের জন্য মেলার দ্বার উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এবারের বইমেলার প্রতিপাদ্য ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানসহ মন্ত্রিসভার সদস্যরা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার দেশকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে চায়। বইমেলা শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিকাশের সূতিকাগার হয়ে উঠুক- এ আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই বইমেলার আয়োজন করা হয়। তবে আমাদের বইমেলা অন্য দেশের বইমেলার মতো নয়। আমাদের বইমেলা আমাদের মাতৃভাষার অধিকার আদায় এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার স্মারক হিসেবে চিহ্নিত। তবে প্রতি বছর মেলার আকার আয়তন বাড়লেও সেই হারে গবেষণাধর্মী বই প্রকাশিত হচ্ছে কিনা কিংবা মানুষের বই পড়ার অভ্যাস বাড়ছে কিনা, এই বিষয়গুলো নিয়েও বর্তমানে চিন্তাভাবনার অবকাশ রয়েছে। এসময়, আগামীতে ‘অমর একুশে বইমেলা’কে ‘অমর একুশে আন্তর্জাতিক বইমেলা’ হিসেবে বিবেচনার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। কারণ ‘অমর একুশে আন্তর্জাতিক আমাদের মাতৃভাষার অধিকার আদায় এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার স্মারক হিসেবে চিহ্নিত। তবে প্রতি বছর মেলার আকার আয়তন বাড়লেও সেই হারে গবেষণাধর্মী বই প্রকাশিত হচ্ছে কিনা কিংবা মানুষের বই পড়ার অভ্যাস বাড়ছে কিনা, এই বিষয়গুলো নিয়েও বর্তমানে চিন্তাভাবনার অবকাশ রয়েছে। এসময়, আগামীতে ‘অমর একুশে বইমেলা’কে ‘অমর একুশে আন্তর্জাতিক বইমেলা’ হিসেবে বিবেচনার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। কারণ ‘অমর একুশে আন্তর্জাতিক বইমেলা’ অনুষ্ঠিত হলে বিশ্ব সাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ হবে বলে তার বিশ্বাস। পাশাপাশি বহু ভাষা এবং সংস্কৃতি শেখা-জানা এবং বোঝার দিকে আমাদের নাগরিকদের আগ্রহী করে তুলতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান গ্লোবাল ভিলেজের এই সময়ে মাতৃভাষা ছাড়াও আরও একাধিক ভাষার সঙ্গে পরিচিত হওয়া জরুরি। বর্তমানের প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সমৃদ্ধি এবং সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে জ্ঞান এবং মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র এবং সমাজ প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। এ জন্য আমাদের জ্ঞানে-বিজ্ঞানে-প্রযুক্তিতে মেধায় নিজেদের সমৃদ্ধ হতে হবে। একইসঙ্গে বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের জন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বইমেলা শুধু একটি নির্দিষ্ট মাসে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর দেশের সব বিভাগ, জেলা, উপজেলায়ও আয়োজিত হতে পারে। বই প্রকাশকরাও এ নিয়ে উদ্যোগী ভূমিকা রাখতে পারেন। এক্ষেত্রে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় আপনাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। তারেক রহমান বলেন, বই পড়ার গুরুত্ব সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছু নেই। জার্মান দার্শনিক ‘মারকুইস সিসেরো’র একটি উক্তি এখানে আমি খুবই প্রাসঙ্গিক মনে করছি। তিনি বলছিলেন, ‘বই ছাড়া ঘর আত্মা ছাড়া দেহের মতো।’ বিজ্ঞানী এবং গবেষকরা বলেছেন, বই শুধু বিদ্যা শিক্ষা কিংবা অবসরের সঙ্গীয় নয়, বরং বই পড়া মস্তিষ্কের জন্য এক ধরনের ব্যায়াম। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস মস্তিষ্কের কোষগুলোর মধ্যে নতুন সংযোগ তৈরি করে। যা মানুষের স্মৃতিশক্তি এবং বিশ্লেষণী ক্ষমতা বাড়ায়। এমনকি আলঝেইমার ও ডিমেনশিয়ার মতো রোগেরও ঝুঁকি কমায়। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলা একাডেমির আয়োজনে ১৯৭৮ সাল থেকে চালু হওয়া অমর একুশে বইমেলা এখন জাতীর মেধা মননের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। ভাষার মাস ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে বইমেলা শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিয়মের কিছুটা ব্যত্যয় ঘটিয়ে এবার নির্ধারিত সময়ের বেশ কিছু পর বইমেলা শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে তথ্য-প্রযুক্তি মানুষের বই পড়ার অভ্যাসে প্রধান বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ইন্টারনেট আসক্তি তরুণ প্রজন্মকে বই বিমুখ করে তুলছে। ইন্টারনেটেও অবশ্যই বই পড়া যায়। তবে গবেষকরা বলছেন, বইয়ের পাতায় কালো অক্ষরে লেখা বই পড়ার মধ্যে জ্ঞানের গভীরতা উপভোগ করা যায়। কিন্তু দিনের পর দিন কম্পিউটারের মনিটরে ডুবে থেকে জ্ঞানার্জন সম্ভব হলেও শরীর এবং মনোজগতে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার প্রভাবও কম নয়। যুক্তরাজ্য কিংবা কানাডার মতো অনেক উন্নত দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বলছেন, ইন্টারনেট ব্যবহারের আসক্তি পড়াশোনার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ হারিয়ে ফেলার তীব্র ঝুঁকি রয়েছে। সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে জনজীবনে ইন্টারনেট অনিবার্য অনুষঙ্গ হয়ে উঠলেও এর নেতিবাচক দিকগুলো সম্পর্কেও আমাদের সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ করে বইয়ের প্রতি তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, বিশ্বের ১০২টি দেশের নাগরিকদের পাঠাভ্যাস নিয়ে গত একটি জরিপ প্রকাশিত হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক সিইও ওয়ার্ল্ড ম্যাগাজিন জরিপের ফলাফল বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা বই পড়ার শীর্ষে রয়েছেন। তালিকার সর্বনিম্নে রয়েছে আফগানিস্তান। বইপ্রেমীদের এই তালিকায় ১০২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭তম। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের একজন মানুষ গড়ে বছরে তিনটির মতো বই পড়েন। আর বই পড়ার পেছনে বছরে ব্যয় করেন মাত্র ৬২ ঘণ্টা সময়। তিনি বলেন, সুতরাং, অমর একুশে বইমেলা শুধু নিছক একটি উৎসবই হবে না। বরং এই মেলা আমাদের আরও বইপ্রেমী করে তুলবে। নিয়মিত বই পড়ায় আগ্রহী করে তুলবে, আজকের এই বইমেলায় দাঁড়িয়ে এটিই আমার প্রত্যাশা। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত একটি গণতান্ত্রিক সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে। জনগণের প্রতি জবাবদিহিমূলক এ সরকার দেশটাকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে চায়। অমর একুশে বইমেলা শুধু বই বেচাকেনার মেলা নয়, বরং মেলা হয়ে উঠুক শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক বিকাশের সূতিকাগার। অমর একুশে বইমেলা কেন্দ্র করে বাংলা একাডেমি মাসব্যাপী আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন, সংগীত ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতার যে আয়োজন করে, তা নতুন প্রজন্মের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করে দেয়। এভাবেই বইমেলা হয়ে উঠুক আমাদের সকলের মিলনমেলা, প্রাণের মেলা। তারেক রহমান বলেন, জাতির মননের প্রতীক বাংলা একাডেমি আমাদের তরুণ-তরুণীদের মেধা ও মনন বিকাশের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন মেয়াদি গবেষণাবৃত্তি, তরুণ লেখক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক সেমিনার আয়োজন। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে বাংলা ভাষা ও দেশজ সংস্কৃতির মূলধারার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হবে। বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাহিত্য ইংরেজিসহ নানা বিদেশি ভাষায় অনুবাদের কার্যক্রমও বাংলা একাডেমি পরিচালনা করছে। তারেক রহমান বলেন, আমি আশা করি এ কার্যক্রম আরও বেগবান হবে এবং আমাদের সমৃদ্ধ সাহিত্যের সঙ্গে বিশ্বসাহিত্যের পরিচয় আরও সুদৃঢ় করবে। এ জন্যই আমরা বলি, সবার আগে বাংলাদেশ। তিনি আরও বলেন, দেশকে সব ধরনের অন্ধকার ও পশ্চাৎপদতা থেকে মুক্ত করে দল মত ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য একটি নিরাপদ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে সবার সহযোগিতা চাই। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে বাংলা ভাষা ও দেশজ সংস্কৃতির মূলধারার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হবে। অনুষ্ঠানের শুরুতে ৫২-এর ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এই সংবাদটি শেয়ার করুন
অন্যান্য খবর
অনুমতি ছাড়া শিক্ষকরা অন্য কোন পেশায় নিয়োজিত থাকলে ব্যবস্থা...
এফএনএসশিক্ষকরা শিক্ষকতার বাইরে অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও পেশায় থাকলে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস...
শিশুদের উচ্ছ্বাসে মুখর বইমেলার প্রথম শিশুপ্রহর
এফএনএসঅমর একুশের বইমেলার প্রথম শিশুপ্রহর ছিল গতকাল শুক্রবার। এ দিন সকাল থেকেই শিশুদের উচ্ছ্বাস আর কল...
কুমিল্লাস্থ কচুয়া সমিতির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনু...
নিজস্ব প্রতিবেদকপবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে কুমিল্লা নগরীতে কুমিল্লাস্থ কচুয়া সমিতির উদ্যোগে এক ধর্মীয়...
ঝাউতলা ফ্ল্যাট ওনার্স এসোসিয়েশন’র ইফতার মাহফিল সম্পন্ন
আয়েশা আক্তারঝাউতলা ফ্ল্যাট ওনার্স এসোসিয়েশন’র উদ্যোগে গতকাল শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কুমিল্...
বুড়িচংয়ে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটার হিড়িক
নিজস্ব প্রতিবেদককুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের বারেশ্বর এবং বুড়িচং পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের...
সৌদিতে প্রাণ হারানো ব্রাহ্মণপাড়ার শাহীন মিয়ার শেষ ঠিকানা ন...
মো. আনোয়ারুল ইসলামকুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার প্রবাসী যুবক শাহীন মিয়া (৪০) সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত...