প্রতিবেদক: Raisul Islam Shohag | ক্যাটেগরি: বৃহত্তর কুমিল্লা | প্রকাশ: 8 Oct 2025, 12:10 AM
ফেসবুকে নারী উদ্যোক্তা সালমা ইসলামকে নিয়ে অপপ্রচার,আইনের আশ্রয়েও মিলছে না শান্তি
নিজস্ব প্রতিবেদক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে চলমান অপপ্রচারে কুমিল্লার নারী উদ্যোক্তা বি.এস.বি.এন যুব মহিলা সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক সালমা ইসলাম নূপুর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। বিগত পাঁচ বছর ধরে এক ভদ্রমহিলার দ্বারা নানাভাবে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি। ভুক্তভোগী ওই উদ্যোক্তা জানান, “আমি খুলনার মেয়ে, কুমিল্লায় এসে কাজ করছি। কিন্তু আমাকে নিয়ে নানা অপপ্রচার চলছে— বলা হচ্ছে আমি এমন,আমি তেমন,কুমিল্লায় এসে রাজত্ব করছি। এসব মিথ্যা কথায় আমি অপমানিত হচ্ছি।তিনি আরও বলেন, “আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ২০২১ সালে থানায় অভিযোগ করেছিলাম। থানা থেকে বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়া হয়। কিছুদিন শান্তিও পাই। কিন্তু কিছুদিন পর আবার শুরু হয় সেই অপপ্রচার। পরে আমি নিজেই ভাবলাম, ওদের সঙ্গে বসে কথা বলি, ভুল বোঝাবুঝি মেটাই। তখন তারা হাসিমুখে আপ্যায়ন করে, সেলফি তোলে, লাইভ করে—কিন্তু কিছুদিন পরই আবার শুরু হয় আগের মতো হয়রানি।”২০২৪ সালে আবারও ওই নারীর নামে থানায় অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগটি এখনো প্রক্রিয়াধীন। প্রায় ২০ দিন আগে আবার থানায় যাই। কারণ, এবার ওই নারী একা নয়, আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে দলবদ্ধভাবে আমার বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার শুরু করেছে,” বলেন ভুক্তভোগী।তিনি জানান, থানায় কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞেস করেন তিনি কী চান? উত্তরে তিনি বলেন, “আমি শান্তি ও সমাধান চাই।”
থানায় মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেওয়া হলে তিনি রাজি হন, কিন্তু অপর পক্ষ মিউচুয়াল সমাধান চাননি। পরবর্তীতে থানায় লিখিতভাবে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় যে, তারা আর তার বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু লিখবেন না। থানা থেকেও তাকে একটি কাগজ দেওয়া হয়—যদি কেউ আবার তার বিরুদ্ধে লেখে, তাহলে কোর্টে সেই কাগজ দেখিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
কিন্তু তিনদিনের মাথায় আবারও শুরু হয় অপপ্রচার।
ওই নারী উদ্যোক্তা বলেন, “আমি একজন নারী হিসেবে যদি আরেক নারীকে হেনস্তা করি, তাহলে আমার উদ্যোক্তা পরিচয় ধারণের কোনো মানে হয় না। তাই আমি চুপ থাকি।”
সম্প্রতি চলমান হয়রানির মধ্যে একদিন তিনি ফেসবুকে একটি ফানি পোস্ট করেন।তিনি বলেন আসলে আমি ভয়ে সেই ফানি পোস্টটি দিয়েছিলাম, যদিও সেটা আমার ভুল ছিল,” স্বীকার করেন তিনি।সবশেষে তিনি বলেন, “আমরা ঘরে হয়তো স্বামীর কাছ থেকে স্বাধীনতা পাই, কিন্তু বাইরে কাজ করতে গেলে এখনো সমাজ আমাদের সেই স্বাধীনতা দিতে প্রস্তুত নয়।” থানা থেকে আসার পরে ওরা মানুষের মাধ্যমে বলছে আমি কাজ ছেড়ে দিলে এবং কুমিল্লা ছেড়ে দিলে ওরা আর আমাকে ডিস্টার্ব করবে না। তখন আমি উত্তরটা দিয়েছিলাম আমি কাজও ছাড়বো না কুমিল্লা ও ছাড়বো না, তোমরা যা পারো করো।
নারী উদ্যোক্তারা বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় হয়রানি এখন একটি নিত্যদিনের ঘটনা, যার শিকার হচ্ছেন কর্মজীবী নারীরা বেশি। এই বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার আরও কার্যকর ভূমিকা কামনা করেছেন তারা।
এই সংবাদটি শেয়ার করুন
অন্যান্য খবর
আজ ১০০ শিক্ষককে সম্মাননা দেবেন প্রধানমন্ত্রী
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আজ প্রথমবারের মতো প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরিত...
দুই মাসে সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়েছে ৫৭ শতাংশ
সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে আগ্রহ বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই ও আগস্টে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে দুই হাজার ৪৬৩...
বুড়িচংয়ে পূর্ব শত্রুতার জেরে দুইজনকে কুপিয়ে জখম, লুটপাটের অভ...
নিজস্ব প্রতিনিধি।।কুমিল্লার বুড়িচংয়ে পূর্ব শত্রুতা ও জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে ঢুকে দুইজনকে...
রূপালী ব্যাংক কুমিল্লা বিভাগের ব্যবসায়ী পর্যালোচনা সভা অনুষ...
কুমিল্লা প্রতিনিধি:রূপালী ব্যাংক পিএলসি, কুমিল্লা বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে ৩১ আগস্ট, ২০২৬ তারিখ...
কুমিল্লায় কারিগরি শিক্ষা মেলা ও প্যানেল ডিসকাশন: ইন্ডাস্ট্রি...
আবুল কালাম আজাদকুমিল্লা টাউনহল মাঠে কুমিল্লা জেলা কারিগরি, ভোকেশনাল শিক্ষা ও ট্রেইনিং ইন্সটিটিউশন ফো...
ব্রাহ্মণপাড়ায় নতুন প্রাথমিক শিক্ষকদের ফুল দিয়ে বরণ
মো. আনোয়ারুল ইসলাম।।কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় নতুন যোগদান করা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক...