প্রতিবেদক: Raisul Islam Shohag | ক্যাটেগরি: বৃহত্তর কুমিল্লা | প্রকাশ: 25 Jun 2026, 8:17 AM
নাঙ্গলকোটে এস.এস.সি ও এইচ.এস.সি পরীক্ষায় জিপিএ-৫প্রাপ্ত অধিকাংশ শিক্ষার্থীর শিক্ষাবৃত্তির টাকা না পাওয়ার অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক, নাঙ্গলকোট
নাঙ্গলকোটে ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচ.এস.সি (বিএমটি) ও এস. এস. সি (ভোক), কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের এইচ.এস. সি ও এস. এস.সি এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম পরীক্ষায় জিপিএ-৫প্রাপ্ত ২১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে অধিকাংশ শিক্ষার্থী গত ১বছরেও তাদের শিক্ষা বৃত্তির টাকা না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের প্রত্যেকের নামে সরকারিভাবে টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও তাদের স্থানীয় অগ্রনী ব্যাংক হিসাব নম্বরে দীর্ঘদিনেও টাকা জমা হয়নি। চলতি জুন মাসে অর্থবছর শেষ হওয়ার অল্প কয়েকদিন বাকি থাকলেও তাদের টাকা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা যেন শেষ হচ্ছে না। শিক্ষার্থীরা এনিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত খোঁজ-খবর নিলেও প্রতিষ্ঠান প্রধানরা তাদেরকে সঠিক কোন জবাব দিতে পারছেন না।
জানা যায়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে ২০২২ সালে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচ. এস. সি (বিএমটি) পরীক্ষায় জি.পি.এ-৫ প্রাপ্ত নাঙ্গলকোট টেকনিক্যাল এন্ড কমার্স কলেজের ১জন শিক্ষার্থী এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সরকারি টেকনিক্যাল এন্ড কমার্স কলেজের ১জন শিক্ষার্থীসহ ২জনের নামে ৫০হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। একই বোর্ডের এস.এস.সি (ভোক) পরীক্ষায় নিশ্চিন্তপুর আবদুল গফুর ভূঁইয়া হাইস্কুলের ২জন শিক্ষার্থীর নামে ১০হাজার টাকা করে ২০হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। একই বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের এইচ.এস.সি পরীক্ষায় বাঙ্গড্ডা বাদশা মিয়া আদর্শ হাইস্কুল এন্ড কলেজের ১জন শিক্ষার্থীর নামে ২৫হাজার টাকা এবং এস.এস.সি পরীক্ষায় সোন্দাইল হাইস্কুলের ১জন, চৌকুড়ি হাইস্কুলের ১জন এবং মাহিনী হাইস্কুলের একজনসহ মোট ৩জন শিক্ষার্থীর নামে ১০হাজার টাকা করে ৩০হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
২০২৩ সালের কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচ.এস.সি (বিএমটি) পরীক্ষায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সরকারি টেকনিক্যাল এন্ড কমার্স কলেজের জি.পি.-৫ প্রাপ্ত ২জন শিক্ষার্থীর নামে ২৫হাজার টাকা করে ৫০হাজার টাকা এবং এস.এস. সি (ভোক) নিশ্চিন্তপুর আবদুল গফুর ভূঁইয়া হাইস্কুলের একজনের নামে ১০হাজার টাকাসহ মোট ৬০হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। একই বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের এইচ.এস.সি পরীক্ষায় বাঙ্গড্ডা বাদশা মিয়া হাইস্কুল এন্ড কলেজের ২জন শিক্ষার্থীর নামে ৫০হাজার টাকা এবং এস.এস.সি পরীক্ষায় তুলাতুলি হাইস্কুলের ১জনের নামে ১০হাজার টাকাসহ মোট ৬০হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচ.এস.সি (বিএমটি) পরীক্ষায় জি.পি.এ-৫ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সরকারি টেকনিক্যাল এন্ড কমার্স কলেজের ২জন শিক্ষার্থীর নামে ৫০হাজার টাকা, একই কলেজের এস. এস. সি (ভোক) পরীক্ষায় ২জনের নামে ১০হাজার টাকা করে ২০হাজার টাকাসহ মোট ৭০হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। একই বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের এইচ.এস. সি পরীক্ষায় বাঙ্গড্ডা বাদশা মিয়া আদর্শ হাইস্কুল এন্ড কলেজের একজন শিক্ষার্থীর নামে ২৫হাজার টাকা এবং একই স্কুল এন্ড কলেজের এস. এস.সি পরীক্ষায় একজনের নামে ১০হাজার টাকাসহ ৩৫হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম পরীক্ষায় বাঙ্গড্ডা ফাজিল মাদ্রাসার জিপিএ-৫প্রাপ্ত ১ জন শিক্ষাথীর নামেও ২৫হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
গত বছর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের তালিকা পাঠিয়ে তাদের স্থানীয় অগ্রনী ব্যাংকের হিসাব নম্বরসহ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নামের তালিকা এবং ব্যাংক হিসাব নম্বরসহ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে জমা দেন। কিন্তু গত এক বছরেও অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাব নম্বরে তাদের টাকা জমা হয়নি বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন।
২০২৪ সালে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচ. এস. সি (বি এম টি) পরীক্ষায় উপজেলার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সরকারি টেকনিক্যাল এন্ড কমার্স কলেজের জি পি এ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী কানিজ ফাতেমা জানান, তার ব্যাংক হিসাব নম্বরে এখনো টাকা আসেনি।
নিশ্চিন্তপুর আবদুল গফুর ভূঁইয়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক আবু বক্কর জানান, ২০২২ এবং ২০২৩ সালে এস.এস.সি (ভোক) পরীক্ষায় আমার প্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত তিনজন শিক্ষার্থী শিক্ষাবৃত্তি ফেলেও এখন পর্যন্ত তাদের ব্যাংক হিসাব নম্বরে টাকা আসেনি।
উপজেলার ঝিকটিয়া ইসহাক মজুমদার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আবু হানিফ জানান, জি পি এ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে তাদের উৎসাহিত ও অনুপ্রানিত করা হয়। এতে করে অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও উদ্ধুদ্ধ হয়। কিন্তু তারা শিক্ষা বৃত্তির টাকা না ফেলে তাদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়। তাদের শিক্ষাবৃত্তির টাকা এখনো কেন পাওয়া যায়নি। বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা দরকার বলে আমি মনে করি।
কুমিল্লা জেলা শিক্ষা অফিসার রফিকুল ইসলাম জানান, আমি বিষয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে খোঁজ নিয়ে দেখবো।
এই সংবাদটি শেয়ার করুন
অন্যান্য খবর
পে স্কেলের রূপরেখা চূড়ান্ত, সভায় এলো যেসব সিদ্ধান্ত
জনপ্রশাসন সংক্রান্ত পে কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে নবম পে স্কেলের নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়...
ভেনেজুয়েলায় পরপর শক্তিশালী ভূমিকম্প, ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্...
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় পরপর দুইটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার...
নাঙ্গলকোটে বোনের হাতে ভাই খুন
নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে তুচ্ছ ঘটনায় বোন, ভাগিনা ও ভগ্নিপতির হামলায়...
খোলা ও ভাঙা ড্রেন আর নয়: ২৭ ওয়ার্ডে নতুন আরসিসি স্ল্যাব বসাচ...
আয়েশা আক্তার।। কুমিল্লা নগরবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটাতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে কু...
হোমনায় অনলাইন জুয়ায় ২২ লাখ টাকা খুইয়ে প্রবাসীর আত্মহত্যা
মো. আবুল বাসার সরকার অনলাইন জুয়ায় বিপুল...
কুমিল্লা আইডিয়াল কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও দোয়া
নিজ¯^ প্রতিবেদককুমিল্লা আইডিয়াল কলেজের ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও দোয়া অনুষ্ঠান কলেজ...