দাউদকান্দিতে অপমৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাদা দাবি বসতবাড়ি দখল ও লুটপাটের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক,দাউদকান্দি
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের আঙ্গাউড়া গ্রামে একটি অপমৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক প্রবাসীর বসতবাড়ি দখল, মালামাল লুটপাট এবং চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে আসামিদের ভয়ে এলাকা ছাড়া হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। মামলার বিবরণ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আঙ্গাউড়া গ্রামের মৃত মহাসিন মিয়ার ছেলে রাজিব মিয়া মাদকাসক্ত ছিলেন। পারিবারিক কলহের জের ধরে গত বছরে ( ২০২৫) ১৩ আগষ্ট তারিখে রাত ১১টায় একটি ভবনের ষষ্ঠ তলায় রাজিব তার নিজ কক্ষে গলায় ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
এই অপমৃত্যুকে পুঁজি করে গ্রামের বাসিন্দা মহাসিন মিয়ার স্ত্রী নাছিমা আক্তার ও তার সহযোগীরা আনোয়ার হোসেনের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, রাজিব মিয়া জীবিত থাকাকালীন সময়ে আনোয়ার হোসেনের কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। চাঁদা দাবির ঘটনায় আনোয়ার হোসেন এবং আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী ২০২৫ সালের ১০ মে দাউদকান্দি মডেল থানায় প্রথমে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের এসডিআর নম্বর ১৪৪৭। পরবর্তী অভিযোগের ১৪-০৮-২০২৫।
বসতবাড়ি দখল ও লুটপাট: গত ১৪ আগস্ট ২০২৫ তারিখ বিকেল পাঁচটার দিকে পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রবিন মিয়া, নাছিমা আক্তার, কুদ্দুছ মিয়া ও তাঁর ভাতিজার ভাগিনা কবির হোসেন গংসহ একদল দুষ্কৃতকারী আনোয়ার হোসেনের তালাবন্ধ বাড়িতে হামলা চালায়। তারা কেচি গেট ও রুমের পাচটি তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তাদেরকে মারধর করে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার,বসত ঘরের আসবাবপত্র ও মূল্যবান মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তারা পুরো বাড়িটি অবৈধভাবে দখল করে নেয় এবং বাড়ি ছাড়ার বিনিময়ে নাছিমা গং বাহিনী বর্তমানে ৩০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করছেন।
আইনি পদক্ষেপ ও বর্তমান অবস্থা: আনোয়ার হোসেন তাঁর এবং তাঁর ছেলের নামে ক্রয়কৃত জমিতে (পেন্নাই মৌজা, বিএস খতিয়ান নং- ২৪২১ ও ৩৩২৫, হাল দাগ নং- ৮৫৪৬) দ্বিতীয় তলার নির্মিত বাড়িটি ফিরে পেতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। বর্তমানে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা চলমান রয়েছে (সিআর- ১৬৭/২৫, পিআর-৯৭/২৫ এবং সিআর-৮২২/২৫)। তবে আনোয়ার মামলা করায় আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে আনোয়ার হোসেনকে প্রাণে মেরে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য: ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন বলেন, "আমার নিজের কষ্টার্জিত টাকায় কেনা এবং গড়া বাড়ি আজ সন্ত্রাসীদের দখলে। তারা আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদে মামলা দিয়ে বাড়ি ছাড়া করেছে। বর্তমানে আমি পরিবার নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।” এই ঘটনায় আনোয়ার হোসেন প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ এবং তার পৈত্রিক ভিটা ও বসতবাড়ি উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। আনোয়ার হোসেন বাড়িটি ক্রয় করে প্রায় দুই বছর যাবত বসবাস করছিলেন। তবে এই বাড়ির মূল চক্রান্ত কারী ৮নং বিবিদী কবির হোসেন, মামলা নং ১৬৭/২৫। তার বিরুদ্ধে ইসলামি ব্যাংকের চেক জালিয়াতি দূনীতি করার একাধিক মামলা রয়েছে। তদন্ত করলে সবকিছু বেরিয়ে আসবে। পরস্পর জানা যায় আনোয়ার হোসেনের ভাতিজা রাজিবকে জিম্মি করে, কে বা কারা টাকা না দিয়েই, তিন শত টাকার অলিখিত স্ট্যাম্পে, দশ লক্ষ ( ১০,০০,০০০/-) টাকার স্বাক্ষর নিয়েছেন। আর এ কারনেই রাজিব স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরকারী ব্যক্তিকে টাকা না দিতে পারায়, তাদের চাপে পরে নিজে ফাঁসি দিয়ে আত্নহত্যা করেছেন। আরো জানা যায় কবির গং বাহিনি আনোয়ার হোসেনের বাড়ি দখল করার সময় চাদা না দেওয়ায় তার এবং তার স্ত্রীর কাছ থেকে তিন শত টাকার অলিখিত স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিয়াছেন। পরবর্তীতে আনোয়ার হোসেন কবির গং এর বিরুদ্ধে মামলা করায় পিবিআই তদন্ত করে ঐ অলিখিত স্ট্যাম্প আনোয়ার হোসেনকে উদ্ধার করে দেন। কবির বাহিনির বর্তমান কাজ হলো মানুষকে চক্রান্ত মধ্যে ফেলে ব্লেকমেইল করে তার কাছ থেকে টাকা আদায় করা। আর জমির কাগজ পত্র দুই নম্বর বানিয়ে টাকা কামাই করা, এই হলো মূল বিষয়।
ক্যাটেগরি:
বৃহত্তর কুমিল্লা
ট্যাগ:
বৃহত্তর কুমিল্লা
আন্তর্জাতিক
রাজনীতি