প্রতিবেদক: Raisul Islam Shohag | ক্যাটেগরি: বৃহত্তর কুমিল্লা | প্রকাশ: 24 Feb 2026, 12:17 AM
গোমতীর চর লুট, নিরুপায় কৃষক
মাহফুজ নান্টু
দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে রাতের আঁধারে গোমতী নদীর চরে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে একদল দুর্বৃত্ত। ব্যাপকভাবে মাটি কেটে নেওয়ায় কংকালসার হয়ে পড়েছে গোমতীর চর। এতে ফসলি জমি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মাটি বহনকারী ট্রাক ও ট্রাক্টরের চাকার ঘর্ষণে ক্ষয় হচ্ছে শহর রক্ষা বাঁধও।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টিক্কার ব্রিজ, শাওয়ালপুর, গোলাবাড়ি, সামারচর, রত্নাবতী বানাশুয়া, পালাপাড়াসহ শতাধিক স্থানে চরের মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। আদর্শ সদর উপজেলার সামারচর এলাকার বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, চরের অনেক জায়গা ২০ থেকে ৩০ ফুট গভীর করে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের নাকের ডগায় গোমতী নদী শেষ করে ফেলা হচ্ছে।
একই উপজেলার গোলাবাড়ি এলাকার কৃষক আবদুল মোতালেব জানান, এভাবে আগে কখনো গোমতীর মাটি লুট হয়নি। এখন গোমতীকে দেখলে মনে হয় শুধু কংকাল পড়ে আছে। কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরর উপপরিচালক মিজানুর রহমান জানান, গোমতীর চরে প্রায় ৫৯ হাজার কৃষক সবজি উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। এখানকার সবজি কুমিল্লার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। তবে চরের মাটি কাটায় সবজি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতি ট্রাক মাটি সর্বনিম্ন ৯০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব মাটি যাচ্ছে জলাশয় ভরাট ও ইটভাটায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দলীয় ও প্রশাসনিক পরিচয় ব্যবহার করে চরের মাটি কাটা হচ্ছে। সামারচর এলাকার বাসিন্দা মো. মাসুম বলেন, অবস্থা এমন হয়েছে যেন গোমতীর কোনো অভিভাবক নেই। এভাবে চলতে থাকলে একদিন গোমতী নদীই হারিয়ে যাবে।
শরিফ হোসেন নামে আরেক বাসিন্দা জানান, সন্ধ্যা হলেই চরে ট্রাক নামে, ভোর হলে মাটি কাটা বন্ধ হয়। রাতভর মাটি কাটার শব্দে ঘুমানো যায় না। বালিখাড়া এলাকার বাসিন্দা জব্বার মিয়া বলেন, মাটি নেওয়ার সময় বালু উড়ে। শিশু ও বয়স্করা কাশতে কাশতে অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
এদিকে গেলো শুক্রবার কুমিল্লা সার্কিট হাউজে কৃষি, খাদ্য মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের মন্ত্রী হাজী আমিনুর রশীদ ইয়াছিন সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন। সে সময় গণমাধ্যমকর্মীরা গোমতীর চরে অবাধে মাটি কাটার বিষয়ে অভিযোগ তুলে ধরলে মন্ত্রী জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে চরের মাটি কাটা বন্ধে কঠোর নির্দেশ দেন।
স্থানীয়রা জানান, মন্ত্রীর এমন নির্দেশের পরেও রাত হলে আলো বন্ধ করে মাটি কাটছে দূর্বৃত্তরা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান জানান, রোববার রাত থেকে দুজন ম্যাজিষ্ট্রেট গোমতী নদীর চরে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। মাটি কাটা দূর্বৃত্তদের দৌরাত্ম বন্ধ করতে কঠোর অভিযান চলছে। মাটি কাটা দুর্বৃত্তদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
এই সংবাদটি শেয়ার করুন
অন্যান্য খবর
কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে, কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ...
মোঃ মাসুদ রানা , কুমিল্লা কলাম... দেয়ালে দেয়ালে গ্যাংয়ের নাম। পাড়া-মহল্লায় দলবদ্ধ কিশোরদের আনাগ...
নোটিশের পরও নির্মাণকাজ—আল-আমিন হাউজিংয়ের বিরুদ্ধে প্রশ্ন
আয়েশা আক্তারকুমিল্লা নগরীর নানুয়াদিঘির পাড়ে সিটি করপোরেশনের নকশা অনুমোদন ছাড়াই ৯ তলা ভবন নির্মাণের অ...
কুমিল্লা ওয়াসার কার্যক্রম ও নাগরিক সেবা উন্নয়ন নিয়ে সিটি প্র...
আয়েশা আক্তারকুমিল্লা নগরীর নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন ও উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল করা...
চার শতাব্দীর সাক্ষী খেরুয়া মসজিদ
মো: আজিজুল হক বগুড়া শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে শেরপুর উপজেলা সদরের খোন্দকার টোলা মহল...
বিএনপির এমপির স্বাক্ষরে অনুমোদন পেল কুমিল্লার লাকসাম প্রেস ক...
কুমিল্লা ব্যুরো চিফ.কুমিল্লার লাকসাম প্রেস ক্লাবের কমিটির অনুমোদন দিয়েছেন বিএনপির কুমিল্লা-৯ আসনের স...
হাসপাতালের ছাদের পলেস্তারা খসে ৩ রোগী আহত
কাজী নজরুল ইসলাম হাসপাতালের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে হাসপাতালের ভর্তিকৃত তিন জন রোগী...