প্রতিবেদক: Raisul Islam Shohag | ক্যাটেগরি: বৃহত্তর কুমিল্লা | প্রকাশ: 18 Dec 2025, 10:42 PM
ব্রাহ্মণপাড়ায় রোটাভাইরাসের সংক্রমণ হাসপাতালের বাড়ছে শিশু রোগীর চাপ
মো. আনোয়ারুল ইসলাম
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা-য় তীব্র শীত পড়ার আগেই রোটাভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। ছোঁয়াচে হওয়ায় রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা। ফলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে বাড়ছে রোগীর চাপ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ দিনে সেখানে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ৯৪ জন রোগী। এ ছাড়া জরুরি বিভাগ থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন আরও ৪২ জন। আক্রান্তদের বড় একটি অংশই শিশু।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে এবং উপজেলার অন্যান্য চিকিৎসা কেন্দ্রে ডায়রিয়া, বমি, জ্বর, কাশি, পেটব্যথা ও পানিশূন্যতা নিয়ে শিশুদের নিয়ে আসছেন অভিভাবকেরা। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে অধিকাংশই রোটাভাইরাসে আক্রান্ত। যাদের বেশি বমি ও পানিশূন্যতা রয়েছে, তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে। তুলনামূলক কম উপসর্গ থাকলে চিকিৎসাপত্র ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে বাড়ি পাঠানো হচ্ছে।
চিকিৎসকেরা জানান, গত কয়েক সপ্তাহে হঠাৎ করেই রোটাভাইরাসের রোগী বেড়েছে। ছোট শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় তারা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। পরিবারের এক শিশুর সংক্রমণ থেকে অন্য শিশুতেও রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। ভাইরাসজনিত হওয়ায় সুস্থ হতে কিছুটা সময় লাগলেও অধিকাংশ রোগী অল্প সময়ের মধ্যেই সেরে উঠছে।
অভিভাবকদের ভাষ্য, পুরোপুরি শীত শুরু হওয়ার আগেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় তারা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েও অনেক ক্ষেত্রে উন্নতি না হওয়ায় তারা হাসপাতালে ছুটে আসছেন। কোনো কোনো রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চাঁদপুরের আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র-এও নেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এক বছর বয়সী মোহাম্মদ আলিফকে নিয়ে আসা তার মা পান্না আক্তার বলেন, দুদিন ধরে পাতলা পায়খানা, বমি ও জ্বরে ভুগছিল তার সন্তান। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসায় কাজ না হওয়ায় হাসপাতালে আসতে হয়েছে।১৭ মাস বয়সী আনিশা কয়েক দিন বাড়িতে চিকিৎসাধীন ছিল। হঠাৎ বমি বেড়ে যাওয়ায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। পানিশূন্যতা দেখা দেওয়ায় চিকিৎসকেরা ভর্তি রাখার পরামর্শ দেন। সাত মাস বয়সী সাফায়াত ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়ে এখন অনেকটাই সুস্থ; শিগগিরই ছাড়পত্র পাওয়ার কথা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক অরূপ সিংহ বলেন, শীতের এ সময়ে শিশুদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি। সাবান-পানি দিয়ে নিয়মিত হাত ধোয়া ও খাবারে সতর্ক থাকলে সংক্রমণ অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শেখ হাসিবুর রেজা বলেন, প্রতিবছরই এ সময়ে রোটাভাইরাস সক্রিয় হয়। এতে শিশুদের তীব্র জলযুক্ত ডায়রিয়া, বমি, পেটব্যথা ও জ্বর দেখা দেয়। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আক্রান্ত শিশুদের পানিশূন্যতা এড়াতে তরল ও খাবার স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বেশি বমি বা গুরুতর পানিশূন্যতা হলে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এই সংবাদটি শেয়ার করুন
অন্যান্য খবর
কুমিল্লার কটকবাজারে পুকুর সেঁচে অস্ত্র উদ্ধার
নিজস্ব প্রতিবেদককুমিল্লা সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী কটকবাজার এলাকায় একটি পুকুর সেঁচে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র...
ভোট উৎসবের অপেক্ষা
অশোক বড়ুয়া রাত পোহালেই বহুল প্রতীক্ষিত ১২ ফেব্রুয়ারি। এদিন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দশম জাতীয় সংসদ ন...
ভোট দিতে ঈদের ছুটির মতোই গ্রামে ছুটছে মানুষ
নিজস্ব প্রতিবেদক, সদর দক্ষিণআগামী ১২ ফেব্রুয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সা...
ব্রাহ্মণপাড়ায় ভোটকেন্দ্রের প্রস্তুতি পরিদর্শনে প্রশাসন ও...
নিজস্ব প্রতিবেদককুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ...
দীর্ঘদিন পর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ এসেছে নষ্ট হতে দেওয়া য...
মো. আনোয়ারুল ইসলামদীর্ঘদিন পর দেশের জনগণ আবারও তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছে বলে মন্তব্য করে...
সহনশীলতা ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান মনিরুল হক চৌধুরীর
নিজস্ব প্রতিবেদকত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য করতে সকল রাজনৈতিক দল,...