নীরবে মানবিক কর্মকাণ্ড ও শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন দানবীর জুনাব আলীর পুত্র গোলাম সারোয়ার
সাদিক মামুন
পিতা ছিলেন শিক্ষানুরাগী, দানবীর ও বেশকটি মাদরাসা, এতিমখানা, স্কুল, কলেজের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব জুনাব আলী। স্বল্পশিক্ষিত হয়েও যিনি আলো ছড়িয়েছেন সমাজজুড়ে। পিতার সেই মহান আদর্শ ও রক্তের উত্তরাধিকার বহন করে আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিচ্ছেন তাঁর কনিষ্ঠ পুত্র মো. গোলাম সারোয়ার। কোনো প্রচার বা মোহের আশায় নয়, নীরবে-নিভৃতে টেকসই সমাজ গঠনে কাজ করে যাচ্ছেন কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের এই কৃতি সন্তান।
পারিবারিক ঐতিহ্য ও বাবার শেখানো মানবিক মূল্যবোধকে বুকে ধারণ করে গোলাম সারোয়ার বুড়িচংয়ের মোকাম ইউনিয়নসহ গোটা কুমিল্লা জেলায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।বিশেষ করে দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠা এবং সেগুলোর সুচারু পরিচালনায় তিনি আর্থিক ও মানসিক সহযোগিতা দিয়ে আসছেন। কেবল তা-ই নয়, প্রয়াত পিতা জুনাব আলীর হাতে গড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি রয়েছে তার মানবিক দৃষ্টি। গোলাম সারোয়ারের এই মানবিক কর্মকাণ্ড এখন আর শুধু বুড়িচংয়ে সীমাবদ্ধ নেই, তা ছড়িয়ে পড়েছে কুমিল্লা জেলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
দরিদ্র ও মেধারী শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন যেন অর্থের অভাবে মাঝপথে থমকে না যায়, সেজন্য তিনি গড়ে তুলেছেন ‘আমেনা জুনাব আলী ফাউন্ডেশন’। এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে শত শত অসহায় শিক্ষার্থীর পড়াশোনার খরচ ও বৃত্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এবছর এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ জেলার ২৫ জন দরিদ্র শিক্ষার্থীর কলেজে ভর্তি ও পড়াশোনার ব্যয়ভার বহন করবে এই ফাউন্ডেশন। শুধু শিক্ষাই নয়, এই প্রতিষ্ঠানের ছায়াতলে এসে চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষ পাচ্ছে চিকিৎসাসেবা।
মো. গোলাম সারোয়ার কেবল সাময়িক সাহায্য দিয়েই তাঁর দায়িত্ব শেষ করেন না। তিনি বিশ্বাস করেন স্থায়ী সমাধানে। সেজন্য এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা এবং দরিদ্র পরিবারগুলোকে বিভিন্ন উপকরণ ও পুঁজি দিয়ে স্বাবলম্বী করে তোলার পেছনে তিনি নিরলস অবদান রেখে চলেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে বিনয়ী ও সমাজহিতৈষী এই মানুষটি একটি সুন্দর, শান্তিময় ও কর্মমুখী সমাজের স্বপ্ন দেখেন। তিনি চান এমন এক সমাজ ব্যবস্থা, যেখানে কোনো যুবক বেকার থাকবে না, থাকবে না কোনো ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের হাহাকার। যুবসমাজকে আলোর পথে ফেরাতে এবং মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে তিনি প্রতিনিয়ত তরুণদের অনুপ্রাণিত করে যাচ্ছেন।
আর্তমানবতার সেবা ও নিজের সামাজিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে মো. গোলাম সারোয়ার বলেন, আমার বাবা আলহাজ্ব জুনাব আলী সারাজীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন, মানুষের সেবার চেয়ে বড় কোনো ধর্ম হতে পারে না। বাবার সেই শিক্ষা ও আদর্শকে ধারণ করেই আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। আমেনা-জুনাব আলী ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আমরা যুবসমাজকে স্বাবলম্বী করা এবং শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার যে উদ্যোগ নিয়েছি, তা আমৃত্যু জারি রাখতে চাই। আমি মনে করি, সমাজ থেকে অন্ধকার দূর করতে বিত্তবানদের নিজ নিজ জায়গা থেকে এগিয়ে আসা উচিত।
মো. গোলাম সারোয়ারের এই অনন্য মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন কুমিল্লার বিশিষ্টজনরা। এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল হাসানাত বাবুল বলেন, গোলাম সারোয়ার সমাজের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তাঁর পিতা আলহাজ্ব জুনাব আলী যেভাবে শিক্ষার আলো ছড়িয়েছিলেন, অকাতরে দান করেছেন, গোলাম সারোয়ারও ঠিক একইভাবে অবহেলিত ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বিশেষ করে শিক্ষা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তাঁর এই নিঃস্বার্থ অবদান কুমিল্লা ছাড়িয়ে পুরো দেশের বিত্তবানদের অনুপ্রাণিত করবে। আমাদের সমাজে গোলাম সারোয়ারের মতো এমন নির্মোহ, সমাজহিতৈষী ও মানবিক মানুষের বড় বেশি প্রয়োজন।
ক্যাটেগরি:
বৃহত্তর কুমিল্লা
ট্যাগ:
বৃহত্তর কুমিল্লা
জাতীয়
আন্তর্জাতিক
রাজনীতি