কুমিল্লায় গ্রাম আদালতের প্রচার-প্রচারণা জোরদারে অংশীজন সভা
কুমিল্লায় গ্রাম আদালত কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রচার-প্রচারণা জোরদার করার লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে স্থানীয় অংশীজন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান। সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মোঃ মেহেদী মাহমুদ আকন্দ।
সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা গ্রাম আদালতের কার্যকারিতা, সহজ বিচারপ্রাপ্তি এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে এর গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে গ্রাম আদালত সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে আরও সমন্বিত প্রচার-প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় উপস্থাপিত তথ্যানুযায়ী, ফেব্রুয়ারি ২০২৪ থেকে এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় গ্রাম আদালতের মাধ্যমে মোট ১২ হাজার ৩৮২টি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৯০৯টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে, যা প্রায় ৯৬ শতাংশ নিষ্পত্তির হার নির্দেশ করে।
উপস্থাপিত তথ্যে দেখা যায়, মুরাদনগর উপজেলায় সর্বোচ্চ ১ হাজার ১১৮টি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৯৩টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। বরুড়া উপজেলায় ১ হাজার ২২৯টি মামলা গ্রহণের বিপরীতে ১ হাজার ১৭৫টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় ৯৯৪টি মামলা গ্রহণ করা হলেও নিষ্পত্তি হয়েছে ৯৬১টি। অপরদিকে, মনোহরগঞ্জ উপজেলায় সর্বনিম্ন ২৮৯টি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং সেখানে নিষ্পত্তির হার ৮৬ শতাংশ, যা তুলনামূলকভাবে কম। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ ও তিতাস উপজেলায় সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ মামলা নিষ্পত্তির হার অর্জিত হয়েছে।
এছাড়া অধিকাংশ উপজেলায় প্রতি ইউনিয়নে মাসিক গড় মামলা গ্রহণের হার ২টির বেশি, যা গ্রাম আদালতের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতার প্রতিফলন। সার্বিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে গ্রাম আদালত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
সভায় বক্তারা বলেন, গ্রাম আদালত স্থানীয় পর্যায়ে স্বল্প খরচে ও দ্রুত সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তির একটি কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। এ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও জনমুখী করতে জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
গ্রাম আদালত কার্যক্রমকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে বিভিন্ন ধরনের প্রচার-প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন দপ্তরের মাধ্যমে গ্রাম আদালতবিষয়ক লিফলেট বিতরণ ও প্রচারণা কার্যক্রম জোরদার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এছাড়া মসজিদের ইমাম ও খতিবদের মাধ্যমে জুমার খুতবায় গ্রাম আদালতের গুরুত্ব ও কার্যক্রম সম্পর্কে আলোচনা করলে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে বলে মত দেন বক্তারা। গ্রাম আদালতের এখতিয়ারভুক্ত মামলাগুলো ইউনিয়ন পরিষদে প্রেরণের জন্য থানার সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
একই সঙ্গে ক্যাবল নেটওয়ার্ক ও স্থানীয় গণমাধ্যমে গ্রাম আদালতসংক্রান্ত তথ্য প্রচার এবং স্ক্রলিং কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন দপ্তরের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ডিজিটাল লিফলেট ও তথ্য প্রচারের মাধ্যমে জনসচেতনতা আরও বাড়ানো সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বাংলাদেশে সক্রিয়করণ-৩য় পর্যায় প্রকল্পের জেলা ব্যবস্থাপক।
ক্যাটেগরি:
বৃহত্তর কুমিল্লা
ট্যাগ:
বৃহত্তর কুমিল্লা
জাতীয়
আন্তর্জাতিক
রাজনীতি