প্রতিবেদক: Raisul Islam Shohag | ক্যাটেগরি: জাতীয় | প্রকাশ: 5 Aug 2026, 9:44 AM
অধ্যাপক আব্দুল ওহাবের সৃষ্টিশীল কর্ম আজও মানুষের হৃদয়ে অমলিন
সাদিক মামুন
কুমিল্লা, সিলেট ও নোয়াখালী অঞ্চলের সাংবাদিকতার বাতিঘর, দৈনিক রূপসী বাংলার প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক, বিশিষ্ট কবি, লেখক এবং শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আব্দুল ওহাবের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী ছিল গতকাল মঙ্গলবার।
২০০৩ সালের এই দিনে তিনি নশ্বর পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরলোকে গমন করেন। বৃহত্তর এ অঞ্চলের মফস্বল সাংবাদিকতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া এবং সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয়।
সময় বহমান, কিন্তু কিছু মানুষের রেখে যাওয়া কর্মের আলো সময়ের সীমানা পেরিয়ে অন্ধকার দূর করে। গতকাল ৪ আগস্ট বৃহত্তর কুমিল্লা, সিলেট ও নোয়াখালী অঞ্চলের প্রথম আঞ্চলিক দৈনিক সংবাদপত্র ‘দৈনিক রূপসী বাংলা’র প্রতিষ্ঠাতা, সম্পাদক, প্রখ্যাত কবি ও লেখক অধ্যাপক আব্দুল ওহাবের ২৩তম মৃত্যুবার্ষিকী ছিল। দুই দশকেরও বেশি সময় আগে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, কিন্তু তাঁর আদর্শ, কলম এবং সৃষ্টিশীল কর্ম আজও এই অঞ্চলের মানুষের হৃদয়ে অমলিন।
যখন এই অঞ্চলে তথ্য ও খবরের কোনো শক্তিশালী নিজস্ব মাধ্যম ছিল না, তখন অধ্যাপক আব্দুল ওহাব এক চরম সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন। তিনি কেবল একজন সংবাদকর্মী ছিলেন না, ছিলেন দূরদর্শী এক পথপ্রদর্শক। কুমিল্লা, সিলেট ও নোয়াখালী অঞ্চলের মানুষের সুখ-দুঃখ, অধিকার ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'দৈনিক রূপসী বাংলা'।
তৎকালীন সময়ে একটি আঞ্চলিক দৈনিক পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশ করা এবং তা টিকিয়ে রাখা ছিল এক মহাসংগ্রাম। সেই সংগ্রামে তিনি জয়ী হয়েছিলেন নিজের মেধা, সততা ও একাগ্রতা দিয়ে। তাঁর ক্ষুরধার সম্পাদকীয় এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা এই অঞ্চলের শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের কণ্ঠস্বরে পরিণত হয়েছিল। নবীন সাংবাদিকদের জন্য তিনি ছিলেন একাধারে শিক্ষক ও অভিভাবক।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি অধ্যাপক আব্দুল ওহাবের আরেকটি বড় পরিচয় ছিল তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষাবিদ। কুমিল্লা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সাবেক এই অধ্যাপক ক্লাসরুমে যেমন শিক্ষার্থীদের আলোর দিশা দেখাতেন, তেমনি সাহিত্যের আঙিনায় তাঁর কলম ছিল চিরসবুজ। কবি ও লেখক হিসেবে তাঁর ভাবুক মন ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাঁর লেখনিতে ফুটে উঠত মা, মাটি, মানুষ এবং প্রকৃতির প্রতি গভীর প্রেম। সমাজ সংস্কারের এক তীব্র আকুলতা প্রকাশ পেত তাঁর প্রতিটি কবিতায় ও প্রবন্ধে।
বহুমাত্রিক গুণী ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক আব্দুল ওহাবের মৃত্যুর ২৩টি বছর কেটে গেছে, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া 'দৈনিক রূপসী বাংলা' এবং তাঁর সৃষ্টিশীল সাহিত্য আজও নতুন প্রজন্মকে পথ দেখাচ্ছে।
এই সংবাদটি শেয়ার করুন
অন্যান্য খবর
৮ ব্র্যান্ডের ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে ভয়াবহ মাত্রার মার্কারি শ...
বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) পরীক্ষায় ৮টি ব্র্যান্ডের ত্বক ফর্সাকা...
বুড়িচংয়ে অতিথি পাখির আবাসস্থল সংরক্ষণে প্রশাসনের উদ্যোগ
কাজী খোরশেদ আলমকুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কিশোরনগর গ্রামে পরিযায়ী (অতিথি) পাখির আবাসস্থল সংরক্ষণে উদ্য...
কুমিল্লার ৪২ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, ব্য...
জাহিদ পাটোয়ারী, কুমিল্লাকুমিল্লার প্রায় অর্ধেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক ছা...
দালাল ছাড়াই মিলছে ভূমি সেবা, মানুষের আস্থার প্রতীক সদর উপজেল...
আয়েশা আক্তারদালালের পরিবর্তে সরাসরি কর্মকর্তার কাছে সেবা পাচ্ছেন মানুষ, ভূমি অফিসে ফিরেছে সাধারণ মান...
কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সহযোগিতা জোরদার...
আয়েশা আক্তারকৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ...
১২০ বয়সেও কারো মৃত্যু সংবাদ এলে কবর খুঁড়তে চলে যান তারু মিয়া
ফয়সল আহমেদ খান, বাঞ্ছারামপুর ( ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি বয়সের ভারে ন্যুয়ে পড়লে কি হবে, এখনো ১২...