প্রতিবেদক: Raisul Islam Shohag | ক্যাটেগরি: বৃহত্তর কুমিল্লা | প্রকাশ: 20 Dec 2025, 11:37 PM
ব্রাহ্মণপাড়ায় মাঠজুড়ে বীজতলা বোরো আবাদে নতুন উদ্যম
মো. আনোয়ারুল ইসলাম
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় ফাঁকা জমিতে বীজতলা তৈরি করে আগাম বোরো ধান চাষে নেমে পড়েছেন কৃষকরা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, বোরো মৌসুমকে সামনে রেখে বীজতলা তৈরি ও বীজ বপনে কৃষকদের ব্যস্ত সময় পার হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আগাম বোরো ধানের বীজতলা তৈরিতে কৃষকরা দিনরাত পরিশ্রম করছেন। কেউ ট্রাক্টর, কেউ কোদাল বা লাঙ্গল দিয়ে জমি প্রস্তুত করছেন। কোথাও বীজতলায় পানি সেচ দেওয়া হচ্ছে, আবার কোথাও মই দিয়ে মাটি সমান করা হচ্ছে। কৃষাণীরা ঘরে আনা ধানবীজ কৃষকদের হাতে তুলে দিচ্ছেন, আর কৃষকরা জমিতে বীজ ছিটিয়ে দিচ্ছেন।
এ বছর ব্রাহ্মণপাড়ায় সর্বোচ্চ পরিমাণ জমিতে বোরো চাষের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ৮ হাজার ৫৮০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য ৪০৬ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ জমিতে বীজ বপন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ৬০ হেক্টর জমিতে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের পরামর্শে আদর্শ বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে মোট ৩০০ হেক্টর জমিতে আদর্শ বীজতলা তৈরি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে কৃষি বিভাগ।
কৃষকরা জানান, আগাম বীজ বপন করলে ধানের চারা সতেজ ও শক্ত হয়। ফলে এসব চারা রোপণ করলে ফলনও ভালো পাওয়া যায়।
উপজেলার দুলালপুর গ্রামের কৃষক কামাল হোসেন বলেন, তিনি এবার তিন বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষের প্রস্তুতি নিয়েছেন। বর্তমানে বীজতলা তৈরি করছেন, দুদিনের মধ্যেই বীজ বপন করবেন।
একই গ্রামের কৃষক শাহাদাত হোসেন জানান, তিনি হাইব্রিড জাতের বোরো ধান চাষের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং সে লক্ষ্যে বীজতলা প্রস্তুত করছেন।
কৃষক শানু মিয়া বলেন, কৃষি প্রণোদনার আওতায় তিনি বোরো ধানের বীজ ও সার পেয়েছেন। এসব বীজ বীজতলায় ছিটিয়ে দিচ্ছেন।
আরেক কৃষক ইসমাইল হোসেন বলেন, তিনি দুই বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করবেন। কৃষি অফিস থেকে পাওয়া বীজ ইতোমধ্যে বীজতলায় বপন করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো চারা পাওয়ার আশা করছেন তিনি।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, বোরো ধান চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতে উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে বীজ ও সার সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ৬০০ জন কৃষককে উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের ধানবীজ ও সার এবং আরও ৫০০ জন কৃষককে হাইব্রিড জাতের ধানবীজ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা কৃষি কার্যালয় ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দিচ্ছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকরা চলতি মৌসুমে বন্যায় হওয়া ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এই সংবাদটি শেয়ার করুন
অন্যান্য খবর
নেপালে বন্যায় নিখোঁজদের খোঁজে মরিয়া তল্লাশি
নেপালের তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ১৭০ ছাড়িয়েছে; ধ্বংসস্তূ...
তিন সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে কুমিল্লা টেলিভিশন সাংব...
নিজস্ব প্রতিবেদক কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার শ্রীমন্তপুর এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে যমুনা ট...
নোয়াখালী-ফেনীর আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন তদারকির দায়িত্ব পেলেন গণপ...
আয়েশা আক্তারনোয়াখালী ও ফেনী জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তদারকির দায়িত্ব পেয়েছেন...
নগরবাসীর সেবায় গতি আনতে কুসিকের মাসিক সভা
আয়েশা আক্তারনগরবাসীর নাগরিক সেবা আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করার লক্ষ্যে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুস...
কুমিল্লায় নানা আয়োজনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্...
নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে কুমিল্লায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিক...
কুমিল্লা জেলা আহলে সুুন্নাত ওয়াল জামাতের উদ্যোগে জশনে জুলুছে
ধর্মীয় ভাবগাম্বির্জের মধ্যদিয়ে কুমিল্লা জেলা আহলে সুুন্নাত ওয়াল জামাত-এর ১২ই রবিউল আউয়াল ঈদ-ই-...